পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৯
সপ্তম পরিচ্ছেদ।

প্রত্যাবৃত্ত হন। লাহিড়ী মহাশয় হেয়ারের পরামর্শে তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা কালীচরণকে ঐ কালেজে ভৰ্ত্তি করিয়া দেন এবং বিধিমতে তাঁহার সহায়তা করিতে প্রবৃত্ত হন। নব্যবঙ্গের নেতৃবৃন্দ শব-ব্যবচ্ছেদকারী ছাত্রগণকে রীতিমত উৎসাহ দিয়া এই নবপ্রতিষ্ঠিত কালেজকে সবল করিতে লাগিলেন। এই সময়ে আরও কতকগুলি শুভানুষ্ঠানের সুত্রপাত হয়, তাহার সহিত নব্যবঙ্গের নেতৃবৃন্দের অল্পাধিক পরিমাণে যোগ ছিল। তাহার কতকগুলির উল্লেখ করা যাইতেছে।

 প্রথম, ১৮৩৪ সালে সহরের বড় বড় ইংরাজ ও বাঙ্গালী ভদ্রলোক সম্মিলিত হইয়া টাউনহলে মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জন্য এক সভা করেন। তাহাতে নব্যবঙ্গের অন্ততম নেতা রসিককৃষ্ণ মল্লিক একজন বক্তা ছিলেন। অতএব দেখা যাইতেছে ১৮৩৪ সাল হইতেই তাঁহারা সহরের বড় বড় কাজে হাত দিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন।

 দ্বিতীয়, ১৮৩৬ সালে কলিকাতাবাসী ইংরাজ ও ভদ্রলোকদিগের সাহায্যে বর্তমান “কলিকাতা পাবলিক লাইব্রেরি” স্থাপিত হয়। এই শুভানুষ্ঠান হওয়াতে ডিরোজিওর শিষ্যদল আনন্দে প্রফুল্লিত হইয়া উঠিলেন এবং সৰ্ব্বদা লাইব্রেরিতে গতায়াত ও পাঠ করিতে আরম্ভ করিলেন। সেই দলের অন্যতম সভ্য প্যারীচাঁদ মিত্র লাইব্রেরির প্রথম দেশীর কৰ্ম্মচারীরূপে নিযুক্ত হইলেন। ইহাই তাঁহার ভবিষ্যতের সর্ব্ববিধ উন্নতির কারণ হইল। ১৮৪৪ সালে লর্ড মেটকাফের স্মরণার্থ বর্ত্তমান মেটকাফ হল নিৰ্ম্মিত হইলে উক্ত লাইব্রেরি সেখানে উঠিয়া আসে।

 তৃতীয় শুভানুষ্ঠান ইংলণ্ডে ব্রিটিশ ইণ্ডিয়া সোসাইটী স্থাপন। রামমোহন রায়ের বন্ধু আডাম সাহেবের সহিত এই যুবকদলের বড় মিত্রতা ছিল। রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর তিনি ইহাদের সঙ্গে মিশিয়া অনেক কাজ করিতেন। তাঁহার ভবনে মধ্যে মধ্যে যুবকদলের সন্মিলন হইত। আডাম ঠিক কোন সালে স্বদেশে ফিরিয়াছিলেন তাহা বলিতে পারি না। কিন্তু তিনি ইংলণ্ডে গিয়াও ভারতবর্ষকে বিস্মৃত হইতে পারেন নাই। ১৮৩৯ সালের জুলাই মাসে, প্রধানতঃ. তাঁহারই উদ্যোগে, ইলেণ্ডে ব্রিটিশ ইণ্ডিয়া সোসাইটী নামে একটী সভা স্থাপিত হয়। ভারতবাসীর সুখ দুঃখ ইংলণ্ডের লোকের গোচর করা তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল। এই সভা জর্জ টমসন, উইলিয়াম এডনিস, মেজর জেনারেল ব্রিগ্‌স্থ প্রভৃতিকে নিযুক্ত করিয়া