পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬৩
সপ্তম পরিচ্ছেদ।

নূতন তেজস্বিতা প্রবিষ্ট করিল; এবং সৰ্ব্বপ্রকার উন্নতিকর কাৰ্য্যের উৎসাহ যেন দশগুণ বাড়িয়া গেল। সেই নব উৎসাহ ও নব উত্তেজনাতে ডিরোজিওর শিষ্যদল নানা বিভাগে নানা কার্য্যে প্রবৃত্ত হইলেন। বলা বাহুল্য যে এই সময়ে জুরি-বিচার প্রবর্ত্তিত করিবার জন্য, মরীশশ দ্বীপের কুলীদিগের প্রতি অত্যাচার নিবারণের জন্য ও মফঃস্বল আদালত সকলে ওকালতিতে পারস্যভাষার পরিবর্ত্তে ইংরাজী ভাষা প্রচলিত করিবার জন্য, হেয়ার যে সকল চেষ্টা করিয়াছিলেন, যুবকদল সে সকল বিষয়ে তাহার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

 ক্রমে আমরা ১৮৪২ সালে উপস্থিত হইতেছি। ঐ সালের প্রারম্ভে সুপ্রসিদ্ধ দ্বারকানাথ ঠাকুর তাঁহার ভাগিনেয় চন্দ্রমোহন চট্টোপাধ্যায় ও তাহার প্রাইভেট সেক্রেটারি পরমানন্দ মৈত্রকে সঙ্গে লইয়া বিলাতযাত্রা করিলেন। মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের পর দেশের বড়লোকদিগের মধ্যে এই প্রথম বিলাত-যাত্রা। তখন দ্বারকানাথ ঠাকুর কলিকাতার ভদ্র ও শিক্ষিত হিন্দুসমাজের সর্ব্বাগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন বলিলে অত্যুক্তি হয় না। সৰ্ব্ববিধ দেশহিতকর কার্য্যে এরূপ মুক্তহস্ত দাতা আর দেখা যায় নাই। ডিষ্ট্রক্ট চ্যারিটেবল সোসাইটী স্থাপন, মেডিকেল কালেজ হাঁসপাতাল নিৰ্ম্মাণ প্রভৃতি কার্য্যের ন্যায় সাধারণের হিতকর অপরাপর অনুষ্ঠানেও তিনি অকাতরে সহস্ৰ সহস্র মুদা দান করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার সদাশয়তার অনেক গল্প দেশে প্রচলিত আছে। সে সকলের উল্লেখ নিম্প্রয়োজন। তাঁহার সদাশয়তার একটা মাত্র নিদর্শন প্রদর্শন করা যাইতেছে। তিনি শৈশবে (Sherburne) শার্বয়ণ নামক যে ফিরিঙ্গী শিক্ষকের নিকট ইংরাজী শিক্ষা করিয়াছিলেন, শুনিতে পাওয়া যায় তাঁহার বাৰ্দ্ধক্য দশা পর্যন্ত চিরদিন তাঁহাকে প্রতিপালন করিয়াছিলেন। দ্বারকানাথের সদাশয়ত স্বদেশীয় বিদেশীয় গণনা করিত না; যেখানেই সাহায্যের প্রয়োজন সেইখানেই তাঁহার দক্ষিণ হস্ত প্রসারিত ছিল। এই সদাশয় মুক্তহস্ত পুরুষ যে শ্রেণীর লোকের প্রীতি ও শ্রদ্ধাভাজন হইবেন, তাহাতে বিচিত্র কি? তাহার ইংলণ্ড-গমন যে সৰ্ব্ব শ্রেণীর লোকের মধ্যে একটা আন্দোলন ও সমালোচনা উত্থিত করিয়াছিল তাহাতে সন্দেহ নাই। তিনি দেশে যেমন সম্মানিত ছিলেন, ইংলণ্ডেও সেইরূপ বহু সন্মান লাভ করিয়াছিলেন। সেখানে মহারাণী ভিক্টোরিয়া