পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সপ্তম পরিচ্ছেদ।
১৬৭

সহিত মিশিয়া গেলেন। নানা স্থানে নানা সভা সমিতিতে বক্তৃতা হইয়া অবশেষে কলিকাতার ফৌজদারী বালাখানা নামক স্থানে একটা ভবনে টমসনের বক্তৃতা আরম্ভ হইল; এরূপ বাগ্মিতা এদেশে কেহ কখনও শুনে নাই। সেই সময়ে বালাহিসারে ইংরাজদিগের যুদ্ধ চলিতেছিল। তাহার উল্লেখ করিয়া শ্রীরামপুরস্থ মিশনারি সম্পাদিত ফ্রেণ্ড অব ইণ্ডিয়া নামক সাপ্তাহিক পত্রের সম্পাদক একবার লিখিলেন—“এখন দুইদিকে ঘন ঘন কামানের ধ্বনি হইতেছে। পশ্চিমে বালাহিসারে ও পূৰ্ব্বে ফৌজদারী বালাখানাতে।” বাস্তবিক জর্জ্জ টমসনের বক্তৃতা সামরিক তোপধ্বনির ন্যায় উন্মাদকারিণী ছিল।

 জর্জ্জ টমসনের বাগ্মিতার ফলস্বরূপ ১৮৪৩ সালের ২০শে এপ্রিল দিবসে, ইংলণ্ডের ব্রিটিশ ইণ্ডিস্থ সোসাইটির অনুকরণে কলিকাতাতেও বেঙ্গল ব্রিটিশ ইণ্ডিয়া সোসাইটি স্থাপিত হইল; শিক্ষিত যুবক দল একেবারে মাতিয়া উঠিলেন। লাহিড়ী মহাশয় ও তাঁহাদের পশ্চাতে পশ্চাতে ছিলেন তাহা বলা বাহুল্য মাত্র। পশ্চাতে পশ্চাতে এই জন্য বলিতেছি যে তাঁহার স্বভাব এই ছিল যে তিনি অধিক কথা কহিতেন না; সৰ্ব্বদা বিনয়ে মৌনী থাকিতেন; নিজের বয়স্যদিগকে অনেক বিষয়ে আপনার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলিয়া মনে করিতেন; এবং সকলের মধ্যে মৌনী থাকিয়া উহাদের কথোপকথনের মধ্যে যাহা ভাল থাকিত তাহাই গ্রহণ করিতেন। তাঁহার বয়স্যগণের মধ্যে যখনি তাহাকে দেখি, দেখি তিনি মৌনী ও তিনি সকলের পশ্চাতে। এই স্বভাব-সুলভ বিনয় আমরা স্বচক্ষে দেখিয়াছি। তাঁহার এই স্বাভাবিক বিনয়ের প্রমাণ স্বরূপ ১৮৩৯ সালে লিখিত রামগোপাল ঘোষের দৈনিক লিপি হইতে কিয়দংশ উদ্ভূত করিতেছিঃ—

 “20th Nov. 1839. In the evening Callachand, Peary, Ramtonoo, Ramchunder and were here to make arrangements for the conducting of Gnanaraweshan. It appeared from what tic two latter said, that it was a losing concern. This they never before gave me to understand, which they should have dune before calling the meeting. Every body spoke 'freely on the subject, with the exception of Tonoo, who was silent.”

 পাঠকগণ দেখিতে পাইতেছেন, কোনও গুরুতর বিষয়ে আলোচনা