পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৩
অষ্টম পরিচ্ছেদ।

শিষ্যগণ যে “বেঙ্গল স্পেক্টেটার” নামক কাগজ বাহির করিতে আরম্ভ করেন, তাহাতে তাঁহারা বিধবা-বিবাহের বৈধতা বিষয়ে বিচার উপস্থিত করেন, কয়েক মাস ধরিয়া ঐ পত্রে উক্ত বিচার চলিয়াছিল। এমন কি “নষ্টে মৃতে প্রব্রজিতে” ইত্যাদি যে পরাশর বচনের উপরে ভিত্তি স্থাপন করিয়া বিদ্যাসাগর মহাশয় বঙ্গীয় পণ্ডিত-মণ্ডলীর সহিত তর্ক্কযুদ্ধে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন, তাহা সৰ্ব্বপ্রথমে উক্ত পত্রে বিচারের মধ্যে উদ্ধৃত করা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মদনমোহন তর্কালঙ্কার এই পণ্ডিতদ্বয় পশ্চাতে থাকিয়া ঐ সকল বচন উদ্ধৃত করিয়া লেখকদিগের হস্তে দিয়াছিলেন কি না বলিতে পারি না। তাহার কোনও প্রকাশ নাই। তবে উক্ত পণ্ডিতদ্বয়ের সহিত নব্যবঙ্গের নেতৃবৃন্দের যে বিশেষ আত্মীয়তা ছিল, তাহা জ্ঞাত আছি। স্বর্গীয় রাজনারায়ণ বসু মহাশয় তাঁহার স্বহস্তলিখিত একখানি জীবনচরিত রাখিয়া গিয়াছেন, তাহাতে দেখিতেছি যে ১৮৪৩ সালে একবার রামগোপাল ঘোষ মহাশয় স্বীয় “লোটাস” নামক জাহাজে করিয়া কতিপয় বন্ধুসহ গঙ্গা পরিভ্রমণ করিতে বাহির হইয়াছিলেন। রাজনারায়ণ বাবু ও পণ্ডিতবর মদনমোহন তর্কালঙ্কার সেই কতিপয় বন্ধুর মধ্যে ছিলেন। অতএব বিধবা-বিবাহ বিষয়ক বচন উদ্ধৃত করিয়া বেঙ্গল স্পেকটেটারে লেখকগণের সাহায্য করা পণ্ডিতদ্বয়ের পক্ষে কিছুই বিচিত্র নহে।

 তবেই দেখা যাইতেছে বিধবা-বিবাহ প্ৰবৰ্ত্তিত করা যে কৰ্ত্তব্য এই বিশ্বাস ১৮৪৩ সাল হইতে চক্ৰবৰ্ত্তী ফ্যাকশনের সভ্যগণের সকলের মনে বদ্ধমূল হইয়াছিল। তাঁহারা দশজনে একত্র হইলেই সে বিষয়ে আলোচনা করিতেন, উৎসাহের সহিত সেই মত প্রচার করিতেন, চারিদিকে তাহা লইয়া তর্ক বিতর্ক করিতেন। ক্রমে এই মত কৃষ্ণনগরেও যায়।

 রাজা শ্ৰীশচন্দ্র নিজে নবদ্বীপের পণ্ডিতমণ্ডলীর সহিত বিধবা-বিবাহ সম্বন্ধে বিচার করিতে প্রবৃত্ত হন। এরূপ আশা হইয়াছিল যে পণ্ডিতগণকে লওয়াইয়া তিনি কাজে কিছু করিলেও করিতে পারেন। যে কারণে তিনি সে বিষয়ে নিরুদ্যম হন, তাহার বিবরণ নিয়ে প্রদত্ত হইতেছে। ক্ষিতীশবংশাবলি চরিতকার মহারাজ শ্রীশচন্দ্রের কার্য্যকলাপের উল্লেখ করিতে গিয়া বলিতেছেনঃ—

 “রাজা বেদানুমোদিত পরব্রহ্মের আরাধনা প্রচলিত করিবার নিমিত্ত অত্যন্ত ব্যস্ত হইয়াছিলেন, তথাপি বিধবা কামিনীদিগের অবস্থা একদিনের