পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৪
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

নিমিত্তও বিস্মৃত হন নাই। তিনি এই স্থির করিয়াছিলেন যে, এপ্রদেশে বিধবা-বিৱাহ প্রচলিত করা শাস্ত্রের সহায়তায় যতদূর হইবেক, কেবল যুক্তি অবলম্বন করিলে ততদূর হইবেক না; একারণ, যদ্যপিও এদেশস্থ পণ্ডিতগণ বিধবা-বিবাহ শাস্ত্রানুমোদিত স্বীকার করিয়াও তাহার ব্যবস্থা দিতে অসম্মত হন, তথাপি রাজা এই ব্যবস্থা পাইবার নিমিত্ত বিবিধ কৌশল অবলম্বন করেন। অবশেষে নবদ্বীপস্থ কয়েকজন পণ্ডিত পুরস্কার লাভাশয়ে ব্যবস্থা দিতে সন্মত হন। ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ হইতেছে, এমন সময়ে, নগরস্থ নব্যসম্প্রদায় সহসা এখানকার কালেজগৃলে এক সভা করিয়া স্বদেশের প্রচলিত রীতি নীতির বহুবিধ নিন্দাবাদ করণান্তর বিধবা-বিবাহ প্রচলিত করিতে যথাসাধ্য যত্ন করিবেন এইরূপ প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করিলেন। ইহাতে বিরুদ্ধবাদিগণ, নবমতাবলম্বীরা কালেজে একত্র হইয়া স্বহস্তে গোঁহত্যা করিয়া, তাহার মাংস ভোজন ও মদিরা পান করিয়াছেন, এইরূপ অপবাদ সৰ্ব্বত্র রটনা করিয়া দিলেন। এই অমূলক কথা দূর ও অদুরবর্ত্তী নানা স্থানে আন্দোলিত হইতে লাগিল। প্রথমে বীরনগরবাসী বামনদাস মুখোপাধ্যায় আপন স্বসম্পৰ্কীয় বালকগণের কালেজে যাওয়া রহিত করিলেন; এবং দুই তিন দিনের মধ্যে অনেক ভদ্রলোক তাঁহার দৃষ্টান্তের অনুগামী হইলেন। কালেজে এরূপ সভা করিবার অনুমতি দিয়াছিলেন বলিয়া, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কালেজের অধ্যক্ষ তিরস্কৃত হইলেন। মহারাজ, যাহাতে কালেজের হানি না হয়, তদ্বিষয়ে সাতিশয় যত্ন করিতে লাগিলেন। কিছুদিন পরেই উপরোক্ত জনরবের মূল বৃত্তান্ত প্রচারিত হইল, এবং যে সকল বালক কালেজ পরিত্যাগ করিয়াছিল, তাহারা পুনরায় কালেজে প্রবেশ করিল, কিন্তু নগর মধ্যে এক বিষম দলাদলি হইয়া উঠিল। যাহা হউক, মহারাজার আনুকুল্য প্রযুক্ত নব্যদল সবল থাকিল, এবং দুই তিন বৎসরের মধ্যে সমস্ত গোল তিরোহিত হইল। রাজা যে ব্যবস্থা লইবার উদ্যোগ করিয়াছিলেন, তাহা এই গোলযোগে বিফল হইয়া গেল”।

 ঐ কালেজগৃহের সভার পূৰ্ব্বে আর একটা ঘটনা ঘটিয়াছিল যাহাতে লাহিড়ী মহাশয়ের শিষ্যদলের ঐ গোখাদক অপবাদ প্রবল হয়। সে ঘটনাটার বিবরণ দেওয়ান কাৰ্ত্তিকের চন্দ্র রায় মহাশয়ের লিখিত আত্মজীবন-চরিত হইতে উদ্ধৃত হইতেছে —

 “কলিকাতা হইতে বাবু কালীকৃষ্ণ মিত্র নামক আমাদের একজন