পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
প্রথম পরিচ্ছেদ।

তাড়িত হইয়া হিজলীর নিকটে গিয়া কুঠী স্থাপন করিয়াছিলেন; কিন্তু পুনরায় ১৬৯০ সালের আগষ্ট মাসে ফিরিয়া আসিয়া সুতানুটীতে কুঠী নিৰ্ম্মাণ করেন। ইহাই কালে মহানগরী কলিকাতারূপে পরিণত হইয়াছে। প্রথমে ইহা একটী বাণিজ্যের স্থানমাত্র ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগেই ইহা ইংরাজ গবর্ণমেণ্টের রাজধানীরূপে নির্ণীত হয়। সেই সময় হইতে ইহার শ্ৰীবৃদ্ধি আরম্ভ হয়; এবং উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যেই ইহা ভারতের একটা সৰ্ব্বাগ্রগণ্য নগরীরূপে পরিগণিত হইয়াছে। কলিকাতার অভ্যুদয়ের পূৰ্ব্বে নবদ্বীপের রাজাদিগের রাজধানী কৃষ্ণনগরই বঙ্গদেশের সর্ব্ব প্রধান স্থান ছিল, এবং নদীয়া জেলা সকল প্রকার সভ্যতা ও শিষ্টাচারের উৎপত্তিস্থান ছিল। কৃষ্ণনগরের রাজবংশ এই সকল সভ্যতা ও শিষ্টাচারের উৎস-স্বরূপ ছিলেন। যেমন একদিকে নবদ্বীপবাসী পণ্ডিতগণ জ্ঞান-প্রভা-দ্বারা দেশকে সমুজ্জল করিয়াছিলেন, এবং নবদ্বীপের সুখ্যাতি দেশ বিদেশে ব্যাপ্ত হইয়াছিল, তেমনি নদীয়া জেলার লোকের সভ্যতা, শিষ্টাচার, সুরসিকতা, শিল্প-কুশলতা, সাহিত্যানুরাগ প্রভৃতির খ্যাতি সৰ্ব্বত্র প্রচার হইয়াছিল। যে রাজবংশের আশ্রয়ে থাকিয়া নদীয়ার এই খ্যাতি প্রতিপত্তি হইয়াছিল তাঁহাদের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত অগ্রে দিতেছি।

 উক্ত রাজবংশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এই—এরূপ জনশ্রুতি যে ১০৭৭ খ্ৰীষ্টাব্দে বঙ্গেশ্বর আদিশূর কোনও যজ্ঞ সম্পাদনার্থ কান্যকুব্জ হইতে পাঁচজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ আনয়ন করেন। ভট্টনারায়ণ তাঁহাদের মধ্যে একজন। এই ভট্টনারায়ণ হইতে উনবিংশ পুরুষ পরে কাশীনাথ নামে একজন জন্ম গ্রহণ করেন। ইনি ভূম্যধিকারী ও ধনবান ছিলেন। বিক্রমপুর ইহাঁদের আদিস্থান ছিল। কাশীনাথ সম্রাট আকবরের অধিকার কালে বাঙ্গালার নবাবের দৌরাত্ম্যে বিক্রমপুর হইতে তাড়িত হন। পথে নবাবের সেনানীকর্ত্তৃক ধৃত ও নিহত হন। কাশীনাথের আসন্ন-প্রসবা বিধবা পত্নী আন্দুলিয়া নিবাসী, বাগওয়ান পরগণার জমিদার, হরেকৃষ্ণ সমাদ্দারের ভবনে আশ্রয় প্রাপ্ত হন। সমাদ্দারের ভবনে তাঁহার একটী পুত্ৰ সন্তান জন্মে। তাহার নাম রামচন্দ্র রাখা হয়। নিঃসন্তান হরেকৃষ্ণ, তাহাকে স্বীয় পুত্ররূপে গ্রহণ করিয়া তাহাকে সমাদ্দার উপাধি প্রদান করেন। রামচন্দ্র সমাদ্দারের চারিটী পুত্র তন্মধ্যে ভবানন্দই সুপ্রসিদ্ধ। এই ভবানন্দ, বিদ্রোহী যশোহররাজ প্রতাপাদিত্যের দমনার্থে প্রেরিত, সম্রাট জাহাঙ্গিরের সেনাপতি রাজা মানসিংহকে বিশেষ সাহায্য করেন। তন্নিবন্ধন সম্রাট তাঁহার প্রতি প্রসন্ন