পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৭
অষ্টম পরিচ্ছেদ৷

এই পণ্ডিতদ্বয়ের সাহায্যে ও দেশের ভদ্রলোকদিগের দ্বারা উৎসাহিত হইয়া তিনি স্ত্রীশিক্ষার উন্নতি বিধানে প্রবৃত্ত হন। ১৮৪৯ সালের ৭ই মে দিবসে তন্নাম-প্রসিদ্ধ বালিকা-বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বাটন এই কার্য্যে দেহ মনঃপ্রাণ নিয়োগ করেন; হেয়ার যেমন বালকদিগের শিক্ষা লইয়া মাতিয়াছিলেন, বীটন তেমনি বালিকাদিগের শিক্ষা লইয়া একেবারে মাতিয়া যান। তিনি সৰ্ব্বদাই তাঁহার নব-প্রতিষ্ঠিত স্কুল পরিদর্শন করিতে আসিতেন; আসিবার সময় বালিকাদিগের জন্য নানা উপহার লইয়া আসিতেন; মধ্যে মধ্যে বালিকাদিগকে নিজ ভবনে লইয়া গিয়া মূল্যবান উপহার সামগ্ৰী দিয়া গৃহে প্রেরণ করিতেন; কখন কখনও চারি পায়ে ঘোড়া হইয়া শিশু বালিকাদিগকে পৃষ্ঠে তুলিয়া খেলা করিতেন। বলিতে কি যে সকল উদারমতি মানব-হিতৈষী ইংরাজ পুরুষের নাম এদেশে চিরস্মরণীয় হইয়াছে, এই মহাত্মা তাহাদের মধ্যে একজন। তিনি নিজের নাম বঙ্গবাসীদিগের স্মৃতি ফলকে অবিনশ্বর অক্ষরে লিখিয়া রাখিয়া গিয়াছেন। বঙ্গদেশের আভ্যন্তরীণ সামাজিক ইতিবৃত্তে ইহাঁর নাম চিরদিন উজ্জ্বল তারকার ন্যায় জ্বলিবে।

 কিন্তু ১৮৪৯ সালে মহাত্মা বাটন বালিকা-বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করিলেন বলিয়া এরূপ কেহ মনে করিবেন না যে, বঙ্গদেশে তাহাই স্ত্রীশিক্ষার প্রথম প্রচলন। বহুকাল পূৰ্ব্ব হইতে এদেশে স্ত্রীশিক্ষা প্রচলিত করিবার চেষ্টা চলিতেছিল। তাহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দিতেছিঃ—

 ১৮১৭ সালে স্কুল সোসাইটী স্থাপিত হওয়া অবধি এই প্রশ্ন উঠে যে বালকদিগের ন্যায় বালিকাদিগকেও শিক্ষা দেওয়া হইবে কি না? এই বিষয় লইয়া সভ্যগণের মধ্যে মতভেদ উপস্থিত হয়। রাধাকান্ত দেব উক্ত সোসাইটির অন্ততর সম্পাদক ছিলেন। তিনি স্ত্রীশিক্ষার সপক্ষে অভিমত প্রকাশ করেন; এবং স্কুল সোসাইটীর অধীনস্থ কোন কোনও পাঠশালাতে বালকদিগের সহিত বালিকাদিগকেও শিক্ষা দিবার রীতি প্রবর্ত্তিত করেন। সম্বৎসর পরে তাঁহার ভবনে স্কুল সোসাইটীর পাঠশালা সকলের বালকদিগের যখন পরীক্ষা ও পারিভোষিক বিতরণ হইত, তখন বালকদিগের সহিত বালিকারাও আসিয়া পুরস্কার লইয়া যাইত।

 এইরূপ কয়েক বৎসর যায়। কিন্তু বালকদিগের সহিত বালিকাদিগকে শিক্ষা দেওয়া অনেক সভ্যের অভিপ্রেত হইল না। এই বিষয়ে যে বিচার