পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০২
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

 হীরা বুলবুল নামে এক প্রসিদ্ধ বারাঙ্গনা তখন কলিকাতা সহরে বাস করিত। ঐ হীরা বুলবুল একজন পশ্চিম দেশীয় স্ত্রীলোক ছিল। হীরা সহরের অনেক ধনী ও পদস্থ লোকের সহিত সংসৃষ্ট হইয়াছিল। অনুমান করি ১৮৫২ সালের শেষে বা ১৮৫৩ সালের প্রারম্ভে হীরা আপনার একটী পুত্রকে ( নিজ গর্ভজাত কি পালিত তাহা জানি না, ) তদানীন্তন হিন্দুকালেজে ভৰ্ত্তি করিবার জন্য পাঠায়। ইহাতে বারাঙ্গনার পুত্রকে হিন্দুসন্তান বলিয়া কলেজে ভৰ্ত্তি করা হইবে কি না, এই বিচার উঠে। এরূপ শুনিতে পাই, তাহাকে ভৰ্ত্তি করা হইবে কি না এই বিষয় লইয়া তদনীন্তন এডুকেশন কাউন্সিল ও হিন্দুকালেজের ম্যানেজিং কমিটীর মধ্যে মতভেদ ঘটে। সেই মতভেদ সত্ত্বেও বালকটিকে ভৰ্ত্তি করাতে সহরের দেশীয় হিন্দু ভদ্রলোকদিগের মধ্যে তুমুল আন্দোলন উপস্থিত হয়। ওয়েলিংটন স্কোয়ারের দত্ত-পরিবারের সুবিখ্যাত বংশধর রাজেন্দ্র দত্ত মহাশয় সেই আন্দোলনের সারথি হইয়া, এই ১৮৫৩ সালের শেষে বা ১৮৫৪ সালের প্রারম্ভে, হিন্দু মেট্ৰপলিটান কালেজ নামে এক কালেজ স্থাপন করেন। সিন্দুরীয়াপটীস্থ সুপ্রসিদ্ধ গোপাল মল্লিকের বিশাল প্রাসাদে এই কালেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতঃপূৰ্ব্বে কাপ্তেন ডি, এল, (রিচার্ডস এডুকেশন কাউন্সিলের সভাপতি মহামতি (বাটন) বেথুন সাহেবের সহিত বিবাদ করিয়া গবর্ণমেণ্টের শিক্ষা বিভাগ হইতে অবসৃত হইয়াছিলেন। রাজেন্দ্র বাবু তাঁহাকে ঐ কালেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করিলেন।

 কাপ্তেন সাহেব বঙ্গদেশীর সৈন্যবিভাগের কর্ণেল ডি, টি, রিচার্ডসনের পুত্র। তিনি ১৮১৯ সালে বঙ্গদেশীয় সৈন্যবিভাগে প্রবেশ করেন। ১৮২২ সালে তিনি একখানি কবিতাপুস্তক প্রকাশ করেন এবং কবিত্বখ্যাতি লাভ করেন। ১৮২৪ সালে স্বাস্থ্যের জন্য ইংলণ্ডে প্রতিনিবৃত্ত হইয়া তৎপর বৎসর আর একখানি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন; তাহাতে দেশ বিদেশে তাঁহার সুখ্যাতি বাহির হয়। ১৮২৯ সালে বিলাতে থাকিয়া তিনি মাসিক পত্রিকাদি সম্পাদন দ্বারা আরও খ্যাতি লাভ করেন। তৎপরে এদেশে আগমন করেন। ১৮৩৬ সালে তিনি হিন্দুকালেজের সাহিত্যাধ্যাপকের পদে নিযুক্ত হন। এই সময়ে ভারতীয় যুবকগণের পাঠোপযোগী কয়েকখানি কাব্য গ্রন্থ সংগ্ৰহ করিয়া প্রকাশ করেন। সে সময়ে যাঁহারা তাঁহার নিকট ইংরাজী সাহিত্য পাঠ করিয়াছেন তাঁহারা আর সে কথা জীবনে ভুলিবেন না। কিন্তু কাপ্তেন সাহেবের স্বভাৰ চরিত্র সম্বন্ধে লোকে নানা কথা কহিত। এমন কি কখনও কখনও সেই বিষয় লইয়া কালেজের