পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০৩
অষ্টম পরিচ্ছেদ

ছাত্রেরাও উপহাস বিদ্রুপ করিত। কাপ্তেন সাহেবের আর একটা দোষ ছিল, তিনি বড় বাবু ছিলেন; আয় ব্যয়ের সমতার প্রতি কখনও দৃষ্টি রাখিতেন না। ইহার ফল স্বরূপ ঋণজালে জড়িত হইয়া পড়িয়াছিলেন। এই কারণে এডুকেশন কাউন্সিলের সভাপতি মহাত্মা বেথুনের সহিত তাঁহার বিবাদ উপস্থিত হয়। বেথুন তাঁহাকে সাবধান হইতে পরামর্শ দেন, কাপ্তেন সাহেব তাহাতে বিরক্ত হইয়া কৰ্ম্ম পরিত্যাগ করেন।

 যাহা হউক কাপ্তেন সাহেবকে অধ্যক্ষ করিয়া মহা সমারোহে হিন্দু মেট্ৰপলিটান কালেজের কার্যারম্ভ হয়। এই কালেজ কয়েক বৎসর মাত্র জীবিত ছিল; কিন্তু প্রতিষ্ঠাকালে ইহা কলিকাতাস্থ হিন্দুসমাজকে প্রবলরূপে আন্দোলিত করিয়াছিল। স্বৰ্গীয় কেশবচন্দ্র সেন প্রভৃতি পূৰ্ব্ববৰ্ত্তী সময়ের অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি ইহার ছাত্রদলে প্রবিষ্ট হইয়াছিলেন। যে রাজেন্দ্র দত্ত বা কলিকাতাবাসীর সুপরিচিত “রাজা বাবু" এই কার্যের প্রধান সারথি ছিলেন, তাঁহার জীবনচরিত সংক্ষেপে বিরক্ত হইল।

রাজেন্দ্র দত্ত

 রাজেন্দ্র দত্ত সুপ্রসিদ্ধ অক্রুর দত্তের পরিবারে ১৮১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সেই ইহার পিতা পাৰ্ব্বতীচরণ দত্তের পরলোক হওয়াতে তাঁহার জ্যেষ্ঠতাত দুর্গাচরণ দত্ত তাঁহার অভিভাবক হন। দুর্গাচরণ দত্ত মহাশয় তাঁহাকে সৰ্ব্বাগ্রে ড্রমণ্ড সাহেবের স্থাপিত সুপ্রসিদ্ধ একাডেমিতে তৰ্ত্তি করিয়া দেন। সেখানে কিছুদিন পড়িয়া তিনি হিন্দুকালেজে যান। সেখানে গিয়া রামতনু লাহিড়ী প্রভৃতি সমাধ্যায়ী ডিরোজিও শিষ্যদলের সহিত তাঁহার পরিচয় ও আত্মীয়তা জন্মে। হিন্দুকালেজ হইতে উত্তীর্ণ হইয়া তিনি কিছুদিন মেডিকেল কালেজের অতিরিক্ত ছাত্ররূপে সেখানকার উপদেশাদি শ্রবণ করেন। সেই সময় হইতেই ইহার চিকিৎসাবিদ্যার প্রতি বিশেষ অনুরাগ দৃষ্ট হয়; এবং বোধ হয় মনে মনে এই সংকল্পও জন্মে যে চিকিৎসার দ্বারা লোকের দুঃখহরণরূপ পরোপকারব্রতে আপনাকে অর্পণ করিবেন। বিষয়কার্যো প্রবৃত্ত হইয়া কিছুদিন সওদাগর আফিসে বেনীয়ানের কাজ করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু স্বীয় অভীষ্ট কৰ্ত্তব্যপথ হইতে কিছুতেই ইহাকে বিচলিত করিতে পারে নাই। এই সময়ে পরলোকগত সুপ্রসিদ্ধ ডাক্তার দুর্গাচরণ বন্দোপাধ্যায় মহাশয়ের সহিত সমবেত হইয়া স্বীয় ভবনে একটী এলোপ্যাথিক ঔষধালয় স্থাপন