পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০৬
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ ।

সহিত স্বকৰ্ত্তব্য সাধন করিতে প্রবৃত্ত রছিলেন। সে সময়ে যাহারা তাহার ছাত্র ছিলেন, তাহাদের অনেকের মুখে শুনিয়াছি যে তাহার-পাঠনার রীতি বড় চমৎকার ছিল । তিনি বৎসরের মধ্যে পাঠাগ্রন্থের সমগ্র পড়াইয়া উঠিতে পারিতেন না। কিন্তু যেটুকু পড়াইতেন, সে টুকুতে ছাত্রগণকে এরূপ বুৎপন্ন করিয়া দিতেন, যে তাহার গুণে পরীক্ষাকালে ছাত্রগণ সন্তোষজনক ফল লাভ করিত। ফলতঃ জ্ঞাতব্য বিষয় যোগান অপেক্ষ জ্ঞান-স্পৃহা উদ্দীপ্ত করার দিকে তাছার অধিক যন্ত্র ছিল। বিশেষতঃ যখন ধৰ্ম্ম বা নীতি বিষয়ে কিছু উপদেশ দিবার অবসর অসিত, তখন তিনি উৎসাহে আত্মহারা হইয়া যাইতেন। নীতির উপদেশটা ছাত্রগণের মনে মুদ্রিত করিবার জন্ত বিধিমতে চেষ্টা করিতেন। তিনি যাহা বলিতেন তাহার পশ্চাতে তাহার প্রেম ও উৎসাহ-পূর্ণ হৃদয় এবং সৰ্ব্বোপরি তাহার জলন্ত সত্যনিষ্ঠা-পূর্ণ জীবন থাকিত, সুতরাং তাহার উপদেশ আগুনের গোলার দ্যায় ছাত্ৰগণের হৃদয়ে পড়িয়া সুমহৎ আকাজক্ষার উদয় করিত। এই সময়ে র্যাহারা তাহার নিকটে পাঠ করিয়াছিলেন, তাহারা সেদিনের কথা কখনই ভুলিতে পারেন নাই ।

 লাহিড়ী মহাশয় ১৮৫২ সাল হইতে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত উত্তরপাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাজ” করিয়াছিলেন । এইখানে অবস্থানকালে তাহার লীলাবতী ও ইন্দুমতী নামে দুই কন্যা জন্মগ্রহণ করে। ১৮৫৪ সালে লীলাবতী ভূমিষ্ঠা হয়, ১৮৫৬ সালে ইন্দুমতীর জন্ম হয়। এখানে ষে অল্পকাল ছিলেন তন্মধ্যে তিনি ছাত্রগণের কিরূপ শ্রদ্ধা ভক্ত আকর্ষণ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন, তাহায় নিদর্শন নিম্নে প্রদত্ত হইতেছে। ঐ স্কুলে তাহার স্মৃতি চিরজাগ্রত রাখিবার জন্ত র্তাহার অনুরক্ত ছাত্ৰগণ বহুবৎসর পরে উক্ত স্কুলগৃহে যে প্রস্তরফলক স্থাপন করিয়াছেন, তাঁহা উদ্ধৃত করিয়া দেওয়া যাইতেছে।