পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২১৫
নবম পরিচ্ছেদ।

অযোধ্য প্রভৃতি প্রদেশের লোক ছিল। তাহারা কৰ্ম্মচ্যুত হইয়া স্বীয় স্বীয় দেশে ফিরিবার সময় নুতন টোটার কথা লইয়া গেল। বিশেষতঃ তৎতৎস্থানের সিপাহীদিগের কর্ণে সেই কথা তুলিল; এবং কিরূপে তাহারা স্বধৰ্ম্ম রক্ষার্থ অস্ত্ৰধারণ করিয়াছিল এবং সেজন্য নিগৃহীত হইয়াছে তাহাও গৌরব ও স্পৰ্দ্ধার সহিত প্রচার করিয়া দিল। চারিদিকে প্রধূমিত অগ্নির ন্যায় অসন্তোষ ব্যাপ্ত হইতে লাগিল।

 অবশেষে সেই প্রধূমিত অসন্তোষ ১০ই মে দিবসে মিরাট নগরে বিদ্রোহাগ্নির আকারে প্রজলিত হইয়া উঠিল। সেখানে ৬ই মে দিবসে ৮৫ জন দেশীয় সৈনিক কাওয়াজের সময় টোটা লইতে অস্বীকৃত হওয়াতে তাহাদিগকে কোর্টমার্শালের বিচারে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। ইহাতে অপরাপর সিপাহিগণ তাহাদিগকে ধৰ্ম্মের জন্য নিপীড়িত বলিয়া, সদলে বিদ্রোহী হইয়া, ১০ই মে দিবসে জেলের কয়েদিদিগকে ছাড়িয়া দেয়; রাজকোষ লুণ্ঠন করে; অস্ত্রাগার হস্তগত করে; অনেক ইংরাজকে হত্যা করে; এবং অবশেষে দিল্লীয় নাম-মাত্র সম্রাট বৃদ্ধ বাহাদুর সাকে পুনরায় রাজসিংহাসনে বসাইয়া স্বাধীনতার পতাকা উড়াইবার মানসে দিল্লী অভিমুখে যাত্রা করে। তাহারা ১১ই মে দিল্লী অধিকার করে। এই সংবাদ দেশে প্রচার হইলে যে, যে স্থানে দেশীয় সিপাহী সৈন্য ছিল, সৰ্ব্বত্রই বিশেষ উত্তেজনা দৃষ্ট হইতে লাগিল। রাজপুরুষগণ সতর্ক হইয়া বিবিধ উপায় অবলম্বন করিতে লাগিলেন; ভয় ও মৈত্রী প্রভৃতির দ্বারা যতদূর হয় কিছুই করিতে অবশিষ্ট রাখিলেন না। কিন্তু সকল চেষ্টাই বিফল হইল। যেমন গ্রীষ্মের দিনে ঘরে আগুন লাগিলে দেখিতে দেখিতে এক ঘর হইতে অপর এক ঘরে লাগিয়া যায়, সেই প্রকার দেখিতে দেখিতে বিদ্রোহাগ্নি চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল।

 এই সুযোগ পাইয়া যাহাদের কোন না কোনও কারণে পূৰ্ব্বাবধি ব্রিটিশ গবর্ণমেণ্টের প্রতি বিদ্বেষ-বুদ্ধি ছিল, এমন কতকগুলি লোক এই বিদ্রোহব্যাপারের সারথ্য কার্য্যে অবতীর্ণ হইলেন। তন্মধ্যে ফৈজাবাদের মৌলবী, বিস্তুরের নানা সাহেব, ঝান্সীর রাণী ও নুন্সির সেনাপতি তাঁতিয়া টোপী সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছেন। ফৈজাবাদের মৌলবী একজন মুসলমান ধৰ্ম্মাচাৰ্য্য, লক্ষ্নৌএর নবাবকে পদচ্যুত করাতে তিনি ইংরাজদেগের প্রতি জাতক্রোধ হইয়াছিলেন। নবাবের পরিবারস্থ ব্যক্তিদিগের সহিত তাঁহার আলাপ ও আত্মীয়তা ছিল। তাহাদের অবনতিকে তিনি নিজধর্মের