পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২৪
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

হাজার টাকা অনেক কষ্টে সংগ্ৰহ করিয়া বিধবার বসতবাটী-খানি ক্রোক হইতে উদ্ধারি করিতে হইয়াছিল!

 যাহা হউক এক দিকে যখন ইণ্ডিগো কমিশন, ও পেট্রিয়টের সহিত বিবাদ প্রভৃতির উপক্রম, তখন অপর দিকে ১৮৬০ সালের আশ্বিন মাসে দীনবন্ধু মিত্রের সুবিখ্যাত ‘নীলদর্পণ’ নাটক প্রকাশিত হইল। এই আর এক ঘটনা যাহাতে বঙ্গসমাজে তুমুল আন্দোলন তুলিয়াছিল। কোন গ্রন্থ বিশেষে যে সমাজকে এতদূর কম্পিত করিতে পারে তাহা অগ্ৰে আমরা জানিতাম না। “নীলদর্পণ” কে লিখিল, তাহা জানিতে পারা গেল না; কিন্তু বাসাতে বাসাতে “ময়রাণী লো সই নীল গেজেছ কই?” ইত্যাদি দৃশ্যের অভিনয় চলিল। যতদূর স্মরণ হয় মাইকেল মধুসূসদন দত্ত এই গ্রন্থ ইংরাজীতে অনুবাদ করেন। পাদরী জেম্‌স লং সাহেব তাহা নিজের নামে প্রকাশ করিলেন। ইংলণ্ডেও আন্দোলন উপস্থিত হইল। নীলকরগণ আসল গ্রন্থকারকে না পাইয়া ইংলিসমান পত্রিকার সম্পাদককে মুখপাত্র করিয়া ১৮৬১ সালের ১৯ শে জুলাই লংএর নামে আদালতে অভিযোগ উপস্থিত করিলেন।

 এরূপ মোকদ্দমা পূৰ্ব্বে কখনও হয় নাই। লং বিধিমতে বুঝাইবার চেষ্টা করিলেন যে তিনি বিদ্বেষবুদ্ধিতে কোনও কার্য্য করেন নাই। তিনি বহুবর্ষ হইতে দেশীয় সংবাদপত্রের ও ভাষায় লিখিত গ্রন্থাদির ভাব গবর্ণমেণ্টের গোচর করিয়া আসিতেছিলেন। নীলদর্পণের অনুবাদ সেই কার্য্যেরই অঙ্গস্বরূপ। কিন্তু তদানীন্তন ইংরাজপক্ষপাতী জজ সার মর্ডান্ট ওয়েল্‌স সে কথার প্রতি কৰ্ণপাত করিলেন না। তাহার বিচারে লংএর এক মাস কারাবাস ও এক হাজার টাকা জরিমানা হইল। তখন নীলকর বিদ্বেষ এদেশীয়দিগের মনে এমন প্রবল যে জরিমানার হুকুম হইবামাত্র, মহাভারতের অনুবাদক সুপ্রসিদ্ধ কালীপ্রসন্ন সিংহ মহোদয়, জরিমানার হাজার টাকা গুণিয়া দিলেন। এরূপ শুনিয়াছি যে আরও অনেক দেশীয় ভদ্রলোক আদালতে জরিমানার টাকা দিবার জন্য টাকা লইয়া উপস্থিত ছিলেন।

 বলিতে কি ১৮৫৬ হইতে ১৮৬১ পর্য্যস্ত এই কাল বঙ্গসমাজের পক্ষে মহেন্দ্রক্ষণ বলিলে হয়। এই কালের মধ্যে বিধবাবিবাহের আন্দোলন, ইণ্ডিয়ান মিউটিনী, নীলের হাঙ্গামা, হরিশের আবির্ভাব, সোমপ্রকাশের অভ্যুদয়, দেশীয় নাট্যালয়ের প্রতিষ্ঠা, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের তিরোভাব ও মধুসূদনের আবির্ভাব কেশবচন্দ্র সেনের ব্রাহ্মসমাজে প্রবেশ ও ব্রাহ্মসমাজে নবশক্তির সঞ্চার