পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২৫
নবম পরিচ্ছেদ।

প্রভৃতি ঘটনা ঘঠিয়াছিল। ইহার প্রত্যেকটাই বঙ্গসমাজকে প্রবলরূপে আন্দোলিত করিয়াছিল, প্রত্যেকটারই ইতিবৃত্ত গভীর অভিনিবেশ, সহকারে আলোচনার যোগ্য।

 নীলদর্পণ নাটকের যে এত আদর হইয়াছিল, তাহার একটা কারণ এই ছিল যে, সে সময়ে বঙ্গসমাজে নাট্যকাব্যের নব-অভ্যুদয় ও রঙ্গালয়ের আবির্ভাব নিবন্ধন লোকের মনে এক প্রকার উত্তেজনা চলিতেছিল। বঙ্গদেশে নাট্যকাব্যের অভ্যুদয় একটা বিশেষ ঘটনা তৎপুৰ্ব্বে যাত্রা, কবি, হাপ আকড়াই প্রভৃতি লোকের আমোদ প্রবৃত্তি চরিতার্থ করিবার একমাত্র উপায় ছিল। অধিকাংশ স্থলে এই যাত্রা, কবি ও হাপ আকড়াই অভদ্র ও অশ্লীল বিষয়ে পূর্ণ থাকিত। ইংরাজী শিক্ষা দেশমধ্যে যেমন ব্যাপ্ত হইতে লাগিল, সেই সঙ্গে সঙ্গে এই সকলের প্রতি শিক্ষিত ব্যক্তিদিগের বিতৃষ্ণ জন্মিতে লাগিল। অনেকে যাত্রা কবি প্রভৃতিতে উপস্থিত থাকিতে লজ্জা বোধ করিতে লাগিলেন। তখন বন্ধুমণ্ডলীর মধ্যে বসিয়া সুরাপান, ও হাস্য পরিহাস প্রভৃতি করাই তাঁহাদের একমাত্র সামাজিক আমোদ অবশিষ্ট রহিল। শিক্ষিত ব্যক্তিদিগের মধ্যে অনেকে ইংরাজগণের স্থাপিত রঙ্গালয়ে গিয়া অভিনয় দর্শন করিতেন। সে সময়ে (১৮৫৬ । ৫৭ সালে) সহরে ইংরাজদের একটা প্রসিদ্ধ রঙ্গালয় ছিল, তাহাতে দেশের অনেক শিক্ষিত লোক ও বড়লোক অভিনয় দেখিতে যাইতেন। দেখিয়া আসিয়া আমাদের মধ্যে এরূপ রঙ্গালয় নাই কেন বলিয়া ক্ষোভ করিতেন। তাহার ফলস্বরূপ সহরের দুই একজন বড়লোক উদ্যোগী হইয়া ইংরাজী শিক্ষিত ব্যক্তিদিগকে অভিনেতা করিয়া ইংরাজী নাটক অভিনয় করিয়া বন্ধুবান্ধবের চিত্ত-বিনোদন করিবার চেষ্টা করিতে আরম্ভ করিলেন। এ চেষ্টা তখন সম্পূর্ণ নূতন ছিল না। ইহার অনেক কাল পূৰ্ব্বে স্বপ্রসিদ্ধ প্রসন্নকুমার ঠাকুর মহাশয় একবার নিজের সুঁড়োর বাগানে এইচ, এইচ, উইলসন সাহেবের অনুবাদিত উত্তররামচরিত অভিনয় করিয়া বন্ধুবান্ধবকে দেখাইয়াছিলেন।

 দেশীয় ভদ্রলোকদিগের মধ্যে ইংরাজী অভিনয়ের আদর দেখিয়া ১৮৫৪ সালে ইংরাজদিগের রঙ্গালয়ের লোকের উদ্যোগী হইয়া ওরিয়েন্টাল সেমিনারী ভবনে “ওরিয়েণ্টাল থিয়েটার" নামে এক শাখা রঙ্গালয় স্থাপন পুৰ্ব্বক সেক্সপীয়রের নাটক সকলের অভিনয় আরম্ভ করিলেন। তাহাতে দেশীয়

 ২৯