পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪৩
নবম পরিচ্ছেদ।

গ্রহণ করিলেন না; কিন্তু তদবধি লাহিড়ী মহাশয় বহুকাল সুরাপান করেন নাই। পুরাতন বন্ধুদিগকে ভালবাসিতেন; সুরা-গোষ্ঠীতে থাকিতেন; কিন্তু সুরাপান করিতেন না। এ নিয়ম বহুবৎসর ছিল। পরে অসুস্থ হইয়া পড়িলে ডাক্তারদিগের ও বন্ধুগণের পরামর্শে এ নিয়ম ভঙ্গ হয়। আমার বিশ্বাস তাহাতে তাঁহার দেহ মনের মহা অনিষ্ট সাধন করিয়াছিল।

 রসাপাগলা হইতে লাহিড়ী মহাশয় ১৮৬০ সালের প্রারম্ভে বরিশাল জেলা স্কুলের হেডমাষ্টার হইয়া গমন করেন। সেখানে তিনমাস মাত্র ছিলেন। কিন্তু সেই অল্পকালের মধ্যে ছাত্ৰগণের মনে অবিনশ্বর স্মৃতি রাখিয়া আসিয়াছেন। এই সময় যাঁহারা তাঁহার নিকট পাঠ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের মধ্যে অনেকেই এখন প্রাচীন। তাঁহাদের মুখে শুনিতে পাই যে মধুবিন্দুর চারিদিকে যেমন পিপীলিকাশ্রেণী যোটে, তেমনি সন্ধ্যার সময় বালকগণ লাহিড়ী মহাশয়ের চারিদিকে যুটিত। তিনি স্কুলগৃহের নিকটস্থ পুষ্করিণীর বাঁধাঘাটে তাহাদের মধ্যে সমাসীন হইয়া বিবিধ বিষয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করিতেন; এবং কথোপকথনচ্ছলে নানা তত্ত্ব - তাঁহাদের গোচর করিতেন। ইহার আকর্ষণ এমনি ছিল যে, বালকগণ গুরুজনের নিকট তিরস্কার সহ্য করিয়াও সেখানে আসিতে ছাড়িত না। কোন কোনও বালক সেই হইতে চিরজীবনের মত সাধুতার দিকে গতি পাইয়াছে। তাঁহারা এক একজন এখন কৰ্ম্মক্ষেত্রে দণ্ডায়মান। সকলেই লাহিড়ী মহাশয়কে চিরদিন গুরুর ন্যায় ভক্তি শ্রদ্ধা করিয়া আসিয়াছেন; এবং এখনও তাঁহার স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করিতেছেন।

 বরিশাল হইতে ১৮৬১ সালের এপ্রিল মাসে লাহিড়ী মহাশয় আবার কৃষ্ণনগর কালেজে আসিলেন। এই কৃষ্ণনগর কালেজ হইতেই ১৮৬৫ সালের নবেম্বর মাসে পেন্সন লইয়া কৰ্ম্ম হইতে অবসৃত হন। তিনি যথন পেন্সনের জন্য আবেদন করেন তখন মিঃ আলফ্রেড স্মিথ, কৃষ্ণনগর কালেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। লাহিড়ী মহাশয়ের আবেদন ডিরেক্টারের নিকট প্রেরণ করিবার সময় স্মিথ সাহেব লিখিয়াছিলেন:—

 “In parting with Baboo Ram Tanoo Lahiri I may be allowed to say that Government will lose the Services of an educational officer, than whom no officer has discharged his public duties with greater fidelity, zeal and devotion, o. i