পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩০

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১০
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

তৎপরে রাজা ঈশ্বরচন্দ্র,(১৭৮৮ হইতে ১৮৭২ পর্যন্ত) নদীয়ার রাজসিংহাসনে আসীন হন। শিবচন্দ্র অতিশয় ধর্ম্মনিষ্ঠ, উদার, ও স্বজন-পোষক ছিলেন। রাজা ঈশ্বরচন্দ্র অমিতব্যয়ী ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি অকারণ অনেক অর্থের অপব্যয় করিতেন। একবার একটা বানরের বিবাহ দিয়া লক্ষাধিক টাকা উড়াইয়াছিলেন। তাঁহার সময় হইতেই বাকী খাজনার জন্য জমিদারী বিক্রয় হইতে আরম্ভ হয়। রাজস্ব আদায়ের সুব্যবস্থা বিধান, কৃষিকার্য্যের উন্নতি সাধন, ও দুর্ভিক্ষাশঙ্কা নিবারণাদির অভিপ্রায়ে, ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিস বাহাদুর এতদ্দেশীয় জমিদারদিগের সহিত দশ বৎসরের জন্য় বার্ষিক দেয় রাজস্ব নির্দ্ধারণ করেন। কথা থাকে যে বিলাতের কর্ত্তৃপক্ষের অভিমত হইলে এই বন্দোবস্তই চিরস্থায়ী হইবে। তদনুসারে ১৭৯৩ সালে সেই বন্দোবস্ত চিরস্থায়ী হয়। প্রথমে দশ বৎসরের জন্য হইয়াছিল বলিয়া অদ্যপি ইহা দশশালা বন্দোবস্ত নামে প্রসিদ্ধ। এই দশশালা বন্দোবস্তের প্রচলন হইতেই বঙ্গদেশের অনেক জমিদারের জমিদারি হ্রাস হইতে লাগিল। মুসলমান নবাবদিগের সময়ে যদিও ভূম্যধিকারিগণ বাকি খাজনার জন্য সময়ে সময়ে কারারুদ্ধ ও নিগৃহীত হইতেন, তথাপি তাঁহাদের জমিদারী অক্ষুণ্ণ থাকিত। সময়ে সময়ে নবাবের কৃপাকটাক্ষ পড়িলে নিষ্কৃতি লাভও করিতে পারিতেন। কিন্তু ইংরাজগণ একদিকে যেমন ভূম্যধিকারিগণের সহিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করিলেন, অপরদিকে তেমনি নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে রাজস্ব না দিলে জমিদারি নিলামে চড়াইবার নিয়ম প্রবর্ত্তিত করিলেন। এই নিলামের কিস্তীর প্রভাবে অনেকের জমিদারী হস্তান্তর হইয়া যাইতে লাগিল। তাই কৃষ্ণচন্দ্রের সময় যে নদীয়া রাজ্যের ক্রমিক উন্নতি লক্ষিত হইয়াছিল, ঈশ্বরচন্দ্রের সময় হইতে তাহা নিলামে চড়িতে লাগিল ও ক্ষয় প্রাপ্ত হইতে থাকিল।

 ঈশ্বরচন্দ্রের পর গিরীশচন্দ্র রাজা হন। (১৮০২ হইতে ১৮৪১ পর্য্যস্ত)। গিরীশচন্দ্র রাজ্য প্রাপ্ত হইয়া রাজকার্য্যে মনোনিবেশ না করিয়া ধর্ম্মানুষ্ঠানের আড়ম্বরে প্রভূত অর্থ ব্যয় করিতে আরম্ভ করেন। পূর্ব্বে উল্লেখ করা গিয়াছে কৃষ্ণচন্দ্রের সময় ৮৪ পরগণা নদীয়া রাজ্যের অন্তর্গত ছিল; গিরীশচন্দ্রের সময়ে তাহ ৫৷৭-খানি পরগণা ও কতকগুলি নিষ্কর গ্রামে দাঁড়াইল। এই রাজার সময়ে ইঁহাদের জমিদারীর সারভূত প্রসিদ্ধ উখড়া পরগণা নিলাম হইয়া যায়। এই