পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪৮
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

উপদেশ দিতেন। ঐ সকল উপদেশ দ্বারা অনেক শিক্ষিত যুবক ব্রাহ্মসমাজের দিকে আকৃষ্ট হইল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৰ্ব্বোচ্চ উপাধিধারী যুবকগণ ব্রাহ্মসমাজের সহিত হৃষ্ট হওয়াকে গৌরবের বিবর মনে করিতে লাগিল।

 দ্বিতীয় যাঁহার ব্রহ্মবিদ্যালয়ের দ্বারা আকৃষ্ট হইতে লাগিলেন, এবং তদগ্রেই যাহারা কেশবচঞ্জের অনুসরণ করিয়াছিলেন, তাহাদিগকে লইয়া কেশব এক সুহৃদগোষ্ঠী স্থাপন করিলেন; সপ্তাহের মধ্যে একদিন নিজভবনে তাঁহাদের সঙ্গে বিশ্রম্ভালাপের জন্য বসিতেন। সেখানে সৰ্ব্বপ্রকার ধৰ্ম্ম ও সামাজিক বিষয়ে কথাবাৰ্ত্তা হইত। দেবেন্দ্রনাথ পঞ্জাবীদিগের সুহৃদগোষ্ঠীর সঙ্গত সভা নাম দেখিয়া ইহার নাম সঙ্গত সভা রাখিলেন। এই সঙ্গত সভা ব্রাহ্মসমাজের নবশক্তির অদ্ভূত উৎসস্বরূপ হইল। যুবকসভ্যগণ সৰ্ব্বাস্তঃকরণের সহিত আত্মোন্নতি প্রার্থী হইয়া সঙ্গতের আলোচনাতে আপনাদিগকে নিক্ষেপ করিতেন, এবং যাহা কৰ্ত্তব্য বলিয়া নিৰ্দ্ধারিত হইত, তাহা সৰ্ব্বতোভাবে আচরণ করিবার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হইয়া সভাস্থল পরিত্যাগ করিতেন। এক এক দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত হইয়া যাইত; তাহাদের জ্ঞান থাকিত না; রাত্রি ৯টার সময়ে বসিয়া হয়ত ২টার সময়ে সভাভঙ্গ হইত; কোথা দিয়া যে সময় যাইত কেহই বুঝিতে পারিত না। এরূপ আত্মোন্নতির জন্য বাকুলতা, এরূপ কৰ্ত্তব্যসাধনে দৃঢ় নিষ্ঠা, এরূপ সত্যানুসরণে চিত্তের একাগ্রতা, এরূপ হৃদয়স্থ বিশ্বাসে আত্মসমর্পণ, এরূপ ঈশ্বরে বিশ্বাস ও নির্ভর সচরাচর দেখা যায় না। অল্পদিনের মধ্যেই কেশবকে বেষ্টন করিয়া এক ঘননিবিষ্ট মণ্ডলী সৃষ্ট হইল। ১৮৬১ সালে কেশবচন্দ্র বিষয়কর্ম্ম হইতে অবসৃত হইয়া ব্রাহ্মধৰ্ম্ম গ্রচারে নিযুক্ত হইলে ইহাদের অনেকে তাঁহার অনুসরণ করিয়া চিরদারিদ্র্যে ঝাপ দিয়াছিলেন, এবং এখনও ইহাদের অনেকে ব্রাহ্মধৰ্ম্মপ্রচার কার্য্যে নিযুক্ত থাকিয়া ব্রাহ্মসমাজের শক্তির উৎস স্বরূপ হইয়া রহিয়াছেন।

 সঙ্গত সভার সভ্যগণ যে নবভাবে দীক্ষিত হইলেন তাহা এই যে হৃদয়ের বিশ্বাসকে কার্য্যে পরিণত করিতে হইবে, তদ্ব্যতীত ধৰ্ম্ম হয় না। এই ভাব অস্তরে প্রবল হওয়াতে ১৮৬১ সাল হইতে ব্রাহ্মধৰ্ম্মকে অনুষ্ঠানে পরিণত করিবার জন্য ব্যগ্রতা দৃষ্ট হইতে লাগিল। ঐ সালে দেবেন্দ্রনাথ তাঁহার দ্বিতীয় কন্যার বিবাহ ব্ৰাহ্মধৰ্ম্মের পদ্ধতি অনুসারে দিলেন। এদিকে যুবক ব্রাহ্মদলে অনেক ব্রাহ্মণের সস্তান জাতিভেদের চিহ্লস্বরূপ উপবীত পরিত্যাগ করিয়া