পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৫৩
দশম পরিচ্ছেদ।

করেন। ঐ “কৌমুদীতে জ্ঞাতব্য বিষয় অনেক খাতি। ইহা লোকশিক্ষার একটী প্রধান উপায় স্বরূপ ছিল। তৎপরে সতীদাহ নিবারণ বইয়া হিন্দু সমাজের সহিত যখন রাজার বিবাদ উপস্থিত । হয়, তখন হিন্দু ধর্মের পক্ষগণচন্দ্রিকা নামক প্রত্রিকা প্রকাশ করিয়া স্বধৰ্ম্ম রক্ষাতে ও সংস্কারার্থীদিগের সহিত বাকযুদ্ধে প্রবৃত্ত হন। কৌমুদী রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পরেও কিছুদিন ছিল। চঞ্জিকা তৎপরেও বহুকাল জীবিত ছিল। চত্রিকার । আবির্ভাবের অল্পকাল : পরেই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘প্রভাকর প্রকাশিত হয়। প্রভাকরের রাজত্ব যখন মধ্যাহ্ন• সর্বোর গায় দীপ্তিমান, তখন ১৮৪৩ : সালে ব্রাহ্মসমাজ কর্তৃক “তত্ত্ববোধিনী” পত্রিকা প্রকাশিত হয় ।

 তত্ত্ববোধিনী বঙ্গীয় পাঠকগণকে গভীর জ্ঞানের বিষয় সকলের আলোচনাতে প্রবৃত্ত করে ; এবং তদ্বারা বঙ্গসমাজে এক মহৎ পরিবর্তন আনয়ন করে। কিন্তু তত্ত্ববোধিনী ঠিক সংবাদ পত্র ছিল না। ধর্মতত্ত্বের আলোচনাই তাহার মুখ্য কাৰ্য্য ছিল। দৈনিক সংবাদ যোগাইবার ভার “প্রভাকর,” “ভাস্কর” প্রভৃতি পত্র সকল গ্রহণ করিয়াছিল । “ভাস্কর’ গুড় গুড়ে ভট্টাচাৰ্য্য বা গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য্য কর্তৃক সম্পাদিত হইত । এতদ্ব্যতীত সেই সময়ে আরও অনেকগুলি সংবাদ পত্র বাহির । হইয়াছিল। ১৮৫০ সালে মুদ্রিত এক তালিকা হইতে নিম্নলিখিত নামগুলি পাওয়া যায়। ; -যথা, মহাজন দর্পণ, চন্দ্রোদয়, রসরাজ, জ্ঞান দর্পণ, বঙ্গদূত, সাধুরঞ্জন, জ্ঞানসঞ্চারিণী, রস-সাগর, রঙ্গপুর বার্তাবহ, রসমুদগর, নিত্যধর্মাহু!ফ্রিকাও দুর্জ ন দমন মহানবমী।

 ইহাদের অধিকাংশ পরস্পরের প্রতি অভদ্র গালাগালিতে পূর্ণ হইত। প্রভাকরে ও ভাস্কয়ে এরূপ অভদ্র কটুক্তি চলিত যে তাহ৷ গুনিলে কাণে হাত দিতে হয়। প্রভাকর ও ভাস্করের পদবীর অনুসরণ করিয়া “রসরাজ ও “যেমন কৰ্ম্ম তেমনি ’ফল প্রভৃতি কতিপয় | পত্রে' এরপ কবির লড়াই আরম্ভ করিল যে, তাহার বর্ণনা অসাধ্য। মুখের বিষয় অচিয় কালের । মধ্যে দেশের লোকের নিন্দার বাণী উখিত হইল। চারিদিকে ছি ছি রব । উঠিয়া গেল। কবির লড়াইও পামিল্লা গেল।

 বোধ হয় এই ছি ছি, রবটা হৃদর্মে থাকাতেই এসময়ে শিক্ষিত ব্যক্তিগণ বাঙ্গালা সংবাদ পত্র পড়িতে বা বাঙ্গালা লিথিতে স্বণ বোধ করিতেন। তাহাদের মধ্যে যে কেহ সংবাদ পত্র প্রকাশ করিতে চাহিতেন, তিনি ইংরাজীতেই করিতেন। এই সকল ইংরাঙ্গী পুত্রের মধ্যে হরিশের Hindoo