পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬০
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠা-কৰ্ত্ত ব্রজসুন্দর মিত্র মহাশয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্ত দেওয়া ঋইতেছেঃ

ব্রজসুন্দর মিত্র।

 এই সাধু পুরুষ বাঙ্গালী ১২২৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃহীন হইয়া তাঁহাকে বাল্যকাল পরাশ্রয়ে ও পরগৃহে যাপন করিতে হয়। তৎপরে * ইংরাজী শিক্ষার মানসে কলিকাতায় আসিয়া ঘোর দারিদ্র্যে ও কঠোর সংগ্রামে - কাল যাপন করেন। শিক্ষা লাঙ্গ করিবার পূৰ্ব্বেই সামান্ত বেতনে কাৰ্য্য আরম্ভ করেন। কিন্তু তাহাতে এরূপ স্বাভাবিক ধৰ্ম্মভীরুতা ও কর্তব্যপরায়ণতা ছিল “যে অচিরকালের মধ্যে উত্তরোত্তর পদোন্নতি হইয়া তিনি উচ্চপদে আরোহণ করেন। পদের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে স্বদেশের উন্নতির বাসনা তাহার মনে প্রবল হইতে থাকে। তাহার দৃষ্টি প্রথম ব্রাহ্মসমাজের দিকে আকৃষ্ট হয়। ১২৫৩ বা ১৮৪৭ সালে, তিনি কতিপয় বন্ধুকে উৎসাহিত করিয়া ঢাকা নগরে একটি ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করিলেন; এবং আত্মীয় স্বজনের নিবারণ ও ভয় প্রদর্শনের মধ্যে তাহার কার্য নিৰ্ব্বাহ করিতে লাগিলেন। কলিকাতা হইতে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় বিবিধ প্রকারে সহায়তা করিতে প্রবৃত্ত হইলেন।

 ইহার পরে মিত্ৰজ মহাশয় সার্ভে ডেপুটা কালেকটরের পদে উন্নীত হইয়া কুমিল্লা প্রভৃতি স্থানে গমন করেন। তাহাতে কিছু দিনের জন্ত ব্রাহ্মসমাজের অবসাদ উপস্থিত হয়। ইহা দেখিয় তিনি নিজ বাসের জন্য ঢাকাতে একটা বাড়ী ক্রয় করেন এবং তাহার একাংশ ব্রাহ্মসমাজের কাৰ্য্যের জন্ত রাখেন। সেই সময়ে তাহারই উৎসাহে এবং দীননাথ সেন মহাশয়ের চেষ্টায় ঢাকা ব্রাহ্মসমাজের অধীনে একটা স্কুল স্থাপিত হয়; এবং কলিকাতা সমাজ হইতে প্রচারক অঘোরনাথ গুপ্ত ঐ স্কুলের একজন শিক্ষক রূপে এবং বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, তাঁহার সহকারী রূপে প্রেরিত হন। ইহা বোধ হয় ১৮৬১ কিন্১৮৬২ সালে ঘটা থাকিবে। এই প্রচারক দ্বয়ের আবির্ভাব পুৰ্ব্ববঙ্গের যুবকলে নবভাবের উদ্দীপনা করিল। তাহারা দলৈ. দলে ব্রাহ্মসমাজের দিকে আকৃষ্ট হইতে লাগিল। ঢাকাতে মহা আন্দোলন উপস্থিত হইলু।

 এই আন্দোলন দেখিয়া প্রাচীনদলের ব্রাহ্মদিগের মধ্যে অনেকে সমাজের কার্ষ্যে নিরুৎসাহ হইলেন; কিন্তু ব্রজম্বন্দর বাবু পশ্চাৎপদ হইলেন না। তিনি সমান ভাবে যোগ দিয়া রছিলেন। কলিকাতাতে বিধবাবিবাহের