পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬৫
দশম পরিচ্ছেদ।

 এই কালের মধ্যে উত্তরবঙ্গের রঙ্গপুর বিভাগে যে জাতীয় জীবনের সঞ্চার দেখা গিয়াছিল তাহাও বিস্তৃত হওয়া কৰ্ত্তব্য নহে। পূৰ্ব্বেই উক্ত হইয়াছে যে মহাত্মা রাজা রামমোহন রায় বিষয় কৰ্ম্ম হইতে অবস্থত হইয়া কণিকাতাতে বসিবার পূৰ্ব্বে রঙ্গপুরকেই নিজ কাৰ্য্যক্ষেত্র করিয়াছিলেন। তখন রঙ্গপুর মাথা তুলিয়া উঠিতেছিল। মধ্যে কেন যে রঙ্গপুর কিছুদিন পশ্চাতে পড়িয়াছিল তাহ বলিতে পারি না। যাহা হউক রঙ্গপুর বিভাগে জাতীয় উন্নতির চেষ্টা কখনই বিরত হয় নাই। ১৮৩২ খ্ৰীষ্টাব্দে লর্ড উইলিয়াম, বেটিঙ্ক বাহাদুর রঙ্গপুরে গমন করেন। সেই সুযোগ পাইয়া রঙ্গপুরের মাজিষ্ট্রেট মিষ্টার দ্যাথানিয়েল জমিদারগণকে উৎসাহিত করিয়া “রঙ্গপুর জমিদার দিগের স্কুল” নামে একটা স্কুল স্থাপন করেন। কলিকাতাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পরে কয়েক বৎসর ধরিয়া ঐ জমিদারফুলের ছাত্রগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে অসমর্থ হওয়াতে, •এই কালের প্রথম ভাগে, গবর্ণমেণ্ট নিজে ঐ স্কুলের ভার লইয়। তাহাকে রঙ্গপুর জেলা স্কুলে পরিণত করেন। তৎপরে পরবর্তী সময়ে ঐ স্কুলকে হাই স্কলে পরিণত করা হইয়াছিল, পরে কালেজ ক্লাস আবার উঠাইয়া দেওয়া হইয়াছে।

 রঙ্গপুরে ইংরাজী শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে অপরাপুর দিকেও উন্নতির পৃহা দৃষ্ট হইতে থাকে। " ১৮৪৬ খ্ৰীষ্টাব্দে সদ্যঃপুষ্করিণীর জমিদার রাজমোহন রায় চৌধুরী মহাশর প্রথম মুদ্রাযন্ত্র স্থাপন করেন, এবং “রঙ্গপুর বার্তাবহ” নামে এক সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশ করিতে আরম্ভ করেন। এই রঙ্গপুর বার্তাবহু পরে কাকিনার জমিদার শম্ভুচন্দ্র রায় চৌধুরী মহাশয়ের হস্তে যায় এবং তিনি ইহাকে “রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ” নামে প্রকাশ করিতে আরম্ভ করেন। যে কালের আলোচনা করিতেছি সে সময়ে কাকিনাই রঙ্গপুরের मण्था জ্ঞানালোচনা ও সদনুষ্ঠানাদির জন্য প্রধান স্থান হই উঠে। প্রথমে শম্ভুচন্দ্র, তৎপরে তাহার পুত্র রাজা মহিমারঞ্জন, ঐ মুখ্যাতি অর্জনের প্রধান কারণ হইয় উঠেন। শম্ভুচন্দ্রের সমুদয় কীৰ্ত্তির উল্লেখ নিম্প্রয়োজন। বাঙ্গালী ১২৭০ সালে মহিমারঞ্জন কাকিনতে এক যালিকা-বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১২৭৫ বঙ্গাব্দে কাকিন ব্রাহ্মসমাজ স্থাপিত হয়। ব্রাহ্মসমাজ রঙ্গপুরেও ব্যাপ্ত হইয়া ইহাকে উজ্জীবিত করে। ক্রমে রঙ্গপুর সহরেও একটা ব্রাহ্মসমাজ স্থাপিত এবং ব্রহ্মমন্দির নিৰ্ম্মিত হয়। মধ্যে রঙ্গপুরে জাতীয় জীবনের কিঞ্চিৎ স্নানতা হইয়াছিল। আবার রঙ্গপুর মাথা তুলি উঠিতেছে।