পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬৭
একাদশ পরিচ্ছেদ ।

 ১৮৪৫ সালে সাত বৎসর বয়সে কেশবচন্দ্র হিন্দুকলেজে ভৰ্ত্তি হন। পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি ১৮৫২ সালে হিন্দুকলেজে বিবাদ উপস্থিত হয়, যে বিবাদের ফলস্বরূপ খ্যাতনামা রাজেন্দ্র দত্ত মহাশয় ১৮৫৩ সালে মেট্ৰপলিটান কলেজ স্থাপন করেন। কেশবচন্দ্রের জ্যেষ্ঠভাত হরিমোহন সেন মহাশয় এই বিবাদে “রাজা বাবুর” পৃষ্ঠপোষক ছিলেন; সুতরাং তিনি কেশবচন্দ্রকে হিন্দুকলেজ হইতে তুলিয়া লইয়া উক্ত কলেজে দিলেন। ১৮৫৪ সালে মেট্ৰপলিটান কলেজ উঠিয়া গেলে কেশবচন্দ্র আবার হিন্দুকলেজে আসিলেন।

 ইহাঁর কিছুকাল পরে একবার বার্ষিক পরীক্ষার সময় কোনও অপরাধে লিপ্ত হওয়াতে তাঁহাকে শাস্তি ভোগ করিতে হয়। শান্ত, সুধীর, সৰ্ব্বজনপ্রিয় কেশবচন্দ্রের মনে ইহাতে গুরুতর আঘাত লাগে। চিরদিন তাহার আত্মমৰ্য্যাদা-জ্ঞান অতিশয় প্রবল ছিল। সুতরাং এই অপমান তাহার প্রাণে শেল-সম বাজিল; তিনি সমবয়স্কদিগের সঙ্গ পরিত্যাগ করিলেন; ঘোর বিষাদের মধ্যে পতিত হইলেন; এবং অমৃতপ্ত হৃদয়ে আত্মোন্নতিয় জন্ত ঈশ্বর-চরণে প্রার্থনা করিতে আরম্ভ করিলেন। অনুমান করি ইহাই তাহার জীবন পরিবর্তনের প্রধান কারণ হইয়াছিল।

 এই সময়ে অর্থাৎ অনুমান ১৮৫৬ সালে তিনি আমেরিকান ইউনিটেরিয়ান মিশনারি ড্যাল সাহেব ও সুবিখ্যাত পাদরী লং সাহেবের সহিত সম্মিলিত হইয়া ব্রিটিশ ইণ্ডির সোসাইট নামে এক সভা স্থাপন করেন। ঐ সভার অপরাপর কার্কের মধ্যে কেশবচন্দ্রেয় কলুটোলাস্থ বাস ভবনে বালকদিগের বিদ্যাশিক্ষার সাহায্যাৰ্থ একটা সায়ংকালীন বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। কেশবচন্দ্র, কতিপয় বয়স্তের সহিত সেখানে প্রতিদিন “বালকদিগকে পড়াইতেন। আমার সমবয়স্ক ও সহাধ্যায়ী কেহ কেহ এই ১৮৫৬ সালে, ঐ স্কুলে সন্ধ্যার সময় পড়া করিতে যাইত। আমি তাহাদের মুখে তখনি কেশবচন্দ্রের প্রশংসা শুনিতাম।

 ১৮৫৬ সালে বাণীগ্রামের কুলীন বৈদ্ধপরিবারস্থ চন্দ্রকুমার মজুমদারের জ্যেষ্ঠ কন্যার হিত তাহার বিবাহ হয়।.

 ১৮৫৭ সাল হইতে কেশবচন্দ্রেয় ধৰ্ম্মভাব ও কৰ্ম্মোৎসাহ বিশেষরূপে প্রকাশ পাইতে লাগিল। ঐ সালে তিনি পুৰ্ব্বোক্ত বেন-স্বহৃদগণের সহিত সম্মিলিত হইয় আপনার ভবনে Good Will Fraternity নামে এক সভা