পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৭৩
একাদশ পরিচ্ছেদ ।

সমাজের একটা সাধারণ উপাসনার দিন থাকিতে, প্রতিবাদকারী কয়েকজনকে আর এক দিন সমাজগৃহ দেওয়া ভাল মনে করিলেন না। বস্তুতঃ দেবেন্দ্রনাথ এ সময়ে যাহা কিছু করিয়াছিলেন, কৰ্ত্তব্য বোধে এবং তাহার অবলম্বিত আদর্শ রক্ষার জন্ত। ব্রাহ্মধৰ্ম্মকে হিন্দুভাবে হিন্দুসমাজের মধ্যে প্রচার করা তাঁহার চিরদিনের আদর্শ। তিনি মনে করিতেন রামমোহন রায় তাহাকে সেই ভার দিয়া গিয়াছিলেন। তাহার ব্যাঘাতের আশঙ্কাতেই তিনি কেশবচন্দ্রের দলের হস্ত হইতে কাৰ্য্যভার লইলেন। তাঁহাদিগকে ভালবাসিতে ও সাহায্য করিতে বিরত হইলেন না। সকল ভাল বিষয়ে তাহাদের উৎসাহদাতা রহিলেন।

 ১৮৬৫ সালের কাৰ্ত্তিক মাসে কেশবচন্দ্র, অঘোরনাথ গুপ্ত ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী এই দুই প্রচারক সঙ্গে পূৰ্ব্ববঙ্গে ব্রাহ্মধৰ্ম্ম-প্রচারে বহির্গত হন। তদুপলক্ষে ফরিদপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ প্রভৃতি স্থান পরিদর্শন করেন।

 কলিকাতায় ফিরিয়া কেশবচন্দ্র যুবকদলের নেতা হইয়া সমাজ-সংস্কারে আপনাকে নিয়োগ করিলেন। বোধ হয় ১৮৬৪ সালেই স্বীয় বয়স্তগণের পত্নীদিগের আধাত্মিক উন্নতি সাধনের জন্ত "ব্রান্ধিক-সমাজ” নামে এক নারী সমাজ স্থাপন করিয়াছিলেন। সেখানে তিনি উপদেশ দিতেন। ব্রাহ্মগণ স্বীর স্বীয় পরিবারস্থ নারীগণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করিতে লাগিলেন।

 ১৮৬৬ সালের জানুয়ারির শেষে যে মাঘোৎসব হইল, তাহাতে কেশবের ব্রান্ধিকা-সমাজের মহিলাসভ্যগণ উপস্থিত থাকিবায় ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। তদনুসারে তিনি দেবেন্দ্রনাথকে অনুরোধ করিয়া কলিকাতা সমাজে বেণীর পুৰ্ব্বপাশ্বে পরদার আড়ালে মহিলাদিগেয় বসিবার আসন করিলেন। ব্রাহ্মসমাজের ইতিহাসে সৰ্ব্বপ্রথমে নারীগণ এই প্রকাণ্ডু উপাসন-মন্দিরে পুরুষদিগের সহিত বসিলেন। মহিলাদিগের উৎসাহ আজও বাড়িয়া গেল। পরবত্তী ফেব্রুয়ারী মাসে কেশবচন্দ্র মহিলাদিগকে লইর ডাক্তার রবসন নামক খ্ৰীষ্টীয় পাদরীর ভবনে প্রকাশু সান্ধা-সমিতিতে গেলেন। সহরে খুব আলোচনা উঠিল।

 ইহার পরে কলিকাতা সুমাজের সহিত বিচ্ছেদ দিন দিন বাড়িতে লাগিল। ঐ সালের এপ্রিল বা মে মাসে কেশবচন্দ্র Jesus Christ, Asia and Europe নামে স্বপ্রসিদ্ধ বক্তৃতা করিলেন। এই বক্তৃতাতে যেমন একদিকে অসাধারণ বাগিতা, অপরদিকে তেমনি আশ্চৰ্য্য ধৰ্ম্মভাবের উদারতা প্রকাশ পাইল।