পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩৬৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৩০৩
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ।

দৃঢ়চেতা, নির্ভীক, একাগ্রচিত্ত ও নারীহিতৈষী পুরুষ কলিকাতাতে আগমন করেন। তাঁহার নাম দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি আসিবার সময় তাঁহার প্রকাশিত “অবলাবান্ধব” নামক সাপ্তাহিক পত্র সঙ্গে করিয়া আসেন। “অবলাবান্ধব" ইহার কয়েক বৎসর পূৰ্ব্বে ঢাকা হইতে প্রকাশিত হয়; এবং নারীগণের শিক্ষা ও উন্নতি সম্বন্ধে অত্যগ্রসর দলের কাগজ বলিয়া পরিগণিত হয়। কলিকাতাতে আসিয়া নুতন নূতন লেখকদিগের সাহায্যে অবলাবান্ধবের শক্তি ব্ৰাহ্মসমাজ মধ্যে প্রবল হইয়া উঠে। ব্রাহ্ম যুবকযুবতীদিগের মধ্যে অনেকে ঐ ভাবাপন্ন হইয়া উঠেন। এই ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ভূতপূৰ্ব্ব সুপ্রসিদ্ধ উকীল দুর্গামোহন দাস মহাশয় ১৮৭০ সালে হাইকোর্টে ওকালতী করিবার জন্য বরিশাল হইতে কলিকাতায় আসিলেন। তিনি আসিয়া গাঙ্গুলী মহাশয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হইলেন। ব্রাহ্মদিগের উপাসনাস্থান যে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মমন্দির তাহাতে কেন মহিলাদিগের জন্য পর্দ্দার বাহিরে বসিবার স্থান থাকিবে না, অগ্রসর যুবকদলের মধ্যে এই আলোচনা কিছুদিন চলিল। অবশেষে তাহারা কেশবচন্দ্র সেন মহাশয়কে আপনাদের অভিপ্রায় জানাইলেন। বলিলেন যে তাহারা স্বীয় স্বীয় পরিবারের মহিলাদিগকে লইয়া পর্দ্দার বাহিরে প্রকাশ্যভাবে বসিতে ইচ্ছুক, এ বিষয়ে তাঁহাকে সম্মতি দিতে হইবে, আচাৰ্য্য কেশবচন্দ্র মহা সমস্যার মধ্যে পড়িয়া গেলেন। তাহার উপাসকমণ্ডলীর কতকগুলি লোক যেমন এই প্রার্থনা জানাইলেন, অপরদিকে প্রাচীন ভাবাপন্ন অনেক সভ্য তদ্বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করিতে লাগিলেন। এই চর্চ্চা যখন চলিতেছে এমন সময়ে একদিন অগ্রসর দলের কতিপয় ব্যক্তি স্বীয় স্বীয় পত্নী ও কন্যাগণকে লইয়া আসিয়া পর্দ্দার বাহিরে সাধারণ উপাসকগণের মধ্যে বসিলেন। প্রাচীন ও নবীন উপাসকগণের মধ্যে মহাবিরোধ ও আন্দোলন উপস্থিত হইল। স্বয়ং কেশবচন্দ্র সেন মহাশয়ও এতদুর যাইতে প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি অগ্রসর দলকে এরূপ করিতে নিষেধ করিলেন। কিন্তু তাঁহার সেরূপ নিষেধ ন্যায়সঙ্গত বিবেচনা করিলেন না। বলিলেন—তাঁহারাও উপাসকমণ্ডলীর সভ্য, মন্দির নিৰ্ম্মাণ বিষয়ে তাঁহারাও সাহায্য করিয়াছেন, মন্দিরের মধ্যে যেখানে ইচ্ছা তাঁহাদের বলিবার অধিকার আছে। কিন্তু সে আপত্তি শোনা হইল না। বারান্তরে তাঁহারা মহিলাগণের সহিত উপস্থিত হইলে তাঁহাদিগকে বসিতে নিষেধ করা হইল। তখন তাঁহারা বিরক্ত হইয়া ভারত বর্ষীয় ব্ৰহ্মমন্দিরে আসা পরিত্যাগ করিলেন; এবং প্রসিদ্ধ ডাক্তার অন্নদাচরণ