পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
৩১৩
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ॥

পথ দেখাইবার জন্য নিজে জুতার দোকান করিয়া জুতা বিক্রয় করিতে লাগি লেন। তাহাতে প্রাচীন সমাজের অনেকে স্তাহার প্রতি অগ্রদ্ধা প্রকাশ করিতে লাগিলেন, কিন্তু তিনি তাহা গ্ৰাহ করিলেন না। তিনি জ্ঞানে বা। পদ-সন্ত্রমে পূর্ববঙ্গে অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন ন৷; কিন্তু এই কালের মধ্যে টাকাতে যত প্ৰকার সদনুষ্ঠানের আয়োজন হইয়াছিল, তিনি তাহার অধিকাংশের উদ্ভাবনকওঁ। তিনি সকল সদামুষ্ঠানের সহিত সংপৃষ্টছিলেন বলিয়া তাহার সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত এখানে দিতেছি। বাঙ্গালা ১২৫২ ইংয়াজী ১৮৪৬ সালের ১৪ই আশ্বিন বিক্রমপুরের অন্তর্গত পশ্চিমপাড়া গ্রামে তাহার জন্ম হয়। তিনি ঐ গ্রামের সুপ্রসিদ্ধ টাকা জজ আদালতের উকীগ কাণীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় পুত্র। কাণীকান্ত চট্টোপাধ্যায় মহাশয় স্বধৰ্ম্মা স্তুরাগী ও ব্রাহ্মসমাজ বিদ্বেষী মানুষ। ছিলেন। ১৮৬৫ সালের শেষে কেশবচন্দ্র সেন যখন ঢাকাতে গমন করেন, তখন তাহার প্রভাব হইতে যুবকদলকে বাঁচাই বায় জগ যে হিন্দুধর্মরক্ষিণী সভা ও হিন্দু হিতৈষিণী পত্রিকা স্থাপিত হয় তিনি তাহার। মূলে ছিলেন। তিনিই স্বধৰ্মানু রাগী মানুষদিগকে একত্র করিয়া ঐ নবধর্মকে বাধা দিবার জন্য বন্ধপরিকর। হইয়াছিলেন। কিন্তু কি বিচিত্ৰ ঘটনা ! তাহার পুত্রগণই ব্রাহ্মসমাজেয় আশ্রয় গ্রহণ করিল! জ্যেষ্ঠ ভামাকাপ্ত ব্যতীত আর তিন পুত্র নবাস্ত, নিশিকান্ড ও শীতলাকান্ত ব্রাহ্মসমাজের দিকে আকৃষ্ট হইলেন। ইহাদের মধ্যে নবকান্তকেই নির্যাতন ও দারিদ্র্যের তাড়ন! বিশেষভাবে সহ্য করিতে হইত্নাছিল।

ব্রাহ্মধর্মের প্রতি তাহার অনুরাগের সঞ্চার দেখিয়া পিতা কাশীকান্ত উগ্র মূৰ্ত্তি ধায়ণ করিলেন। এমন কি প্ৰহায় পর্যন্ত করিতে বিরত হন নাই। কিন্তু কিছুতেই নবকান্তকে নিরস্ত করিতে পারিলেন না।

তাহার পিতৃবিয়োগের পরে তাহার কঠোর সংগ্রাম উপস্থিত হইল। পিতা উইল করিয়া গেলেন যে ছেলে স্বধৰ্ম্মে না থাকিলে সে তাহার পরিত্যক্ত সম্পত্তি পাইবে না। তদনুসারে নবকান্ত সর্বপ্রকার পৈতৃক সম্পত্তি হইতে বঙ্কিত হইয়া অসম্পূর্ণ শিক্ষা লইয়া পরিবার প্রতিপালনের জন্য ঘোর সংগ্রামের মধ্যে পড়িলেন। তিনি প্রথমে, ধামরাই নামক স্থানের স্কুলে শিক্ষকতা কার্যে নিযুক্ত হন। পরে শ্রীনগর মাইনর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাজ করেন'তাহার পরিবারস্থ ব্যক্তিগণ বলেন, যে “স্কুলের সম্পাদক তাহাকে স্কুলের বিল সম্বন্ধে একটা অসঙ্গত প্রস্তাবে সম্মত হইতে অনুরোধ করায়, তিনি তৎক্ষণাৎ কার্য পরিত্যাগ করিয়া ঢাকায় চলিয়া গেলেন।