পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩৭৯

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।




ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ।

নব্যবঙ্গের তৃতীয় যুগের নেতৃবৃন্দ।


রাজনারায়ণ বসু

 প্রকৃত পক্ষে রাজনারায়ণ বসু মহাশয় নব্যবঙ্গের তৃতীয় যুগের মানুষ নহেন। ১৮৫১ সালে তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুলের হেড মাষ্টার হইয়া যান; এবং সেই সালেই তাঁহার প্রধান কাৰ্য্য আরম্ভ হয়। সে দিক দিয়া দেখিলে তাঁহার কার্য্যের উল্লেখ অগ্রেই করা উচিত ছিল। কিন্তু ১৮৭০ হইতে ১৮৭৯ সালের মধ্যে তাঁহার শক্তি বঙ্গসাহিত্যে ও বঙ্গদেশীয় জাতীয় চিন্তাতে প্রধান রূপে অনুভূত হয়, এইজন্য এই কালের নেতৃবৃন্দের মধ্যে তাঁহার নাম উল্লেখ করা যাইতেছে। তাঁহার জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এইঃ—

 ১৮২৬ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর দিবসে, কলিকাতার পাঁচ ক্রোশ দক্ষিণ পূৰ্ব্ববৰ্ত্তী বোড়াল গ্রামে, প্রসিদ্ধ বসু বংশে রাজনারায়ণ বসু মহাশয়ের জন্ম হয়। এই বোড়ালের বসুর কলকাতার আদিম অধিবাসী ছিলেন। ইংরাজেরা গোবিন্দপুরে যখন বর্ত্তমান কেল্লা নির্ন্মাণ করেন, তখন তত্ৰত্য বসু পারিবারকে বাহির সিমলাতে এওয়াজি জমি দিয়া সেখান হইতে উঠাইয়া দেন। কালক্রমে রাজনারায়ণ বসুর প্রপিতামহ শুকদেব বসু, কলিকাতা হইতে উঠিয়া গিয়া বোড়ালে বাস করেন। ইহার পিতামহ রামসুন্দর বসু, দয়া দাক্ষিণ্য, সদাশয়তা প্রভৃতির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। পিতা নন্দকিশোর বসু বংশের সর্বজনপ্রশংসিত গুণসকলের অধিকারী হইয়াছিলেন; এবং তদুপরি মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের সংশ্রবে আসিয়া ধৰ্ম্মসম্বন্ধে উদার ভাব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। তিনি রামমোহন রায়ের একজন অনুগত শিষ্য ছিলেন; এবং কিছুদিন রাজার প্রাইভেট সেক্রেটারির কাজ করিয়াছিলেন। ১৮৮৫ সালে তাঁহার মৃত্যু হয়। এরূপ কথিত আছে যে মৃত্যু শয্যাতে শয়ান হইয়া তিনি রামমোহন রায়ের কৃত শঙ্কর-ভাষ্যের অনুবাদ আনাইয়া পাঠ করাইয়াছিলেন; এবং ইংলণ্ডের ব্রিষ্টলনগরে ওঁকার জপিতে জপিতে যেমন রাজার মৃত্যু হইয়াছিল তেমনি ওঁকার জপিতে জপিতে ইহারও মৃত্যু হয়।

 রাজনারায়ণ বসু মহাশয় এই পিতার সন্তান। বাল্যকালে বোড়াল গ্রামেই গুরুমহাশয়ের পাঠশালে তাঁহার বিদ্যারম্ভ হয়। তখন কলিকাতার দক্ষিণ