পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩১৯
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ ।

 (৭) Defence of Brahmoism and of the Brahmo Somajato's পুস্তিকা প্রণয়ন।

 ইহার প্রত্যেকটর জন্য তাঁহাকে প্রভূত পরিশ্রম করিতে হইয়াছিল। প্রথমতঃ মেদিনীপুর জেলা স্কুলে তাহার পূৰ্ব্বে একজন ফিরিঙ্গী হেড মাষ্ট্যর ছিলেন। তাঁহার অধিকার কালে স্কুলটির অবস্থ শোচনীয় হইয়া দাড়াইয়াছিল। কি শিক্ষক কি ছাত্র কাহারও মনে উন্নতির স্পৃগ দৃষ্ট হয় নাই। বস্তুজ মহাশয় কাৰ্য্যভার গ্রহণ করিয়াই স্কুলটির সর্বাঙ্গীণ উন্নতি বিধানে আপনাকে নিয়োগ করিলেন। একদিকে শিক্ষকগণের সহিত প্রীতি ও শ্রদ্ধার সম্বন্ধ স্থাপন করিয়া তাঁহাদিগকে স্বীয় স্বীয় কার্যো উৎসাহিত করিরা তুলিলেন; অপরদিকে উৎকৃষ্টতর শিক্ষা প্রণালী প্রবর্তিত করিয়া ছাত্রগণকে শিক্ষা-বিষয়ে মনোযোগী করিয়া তুলিলেন। তিনি তাহার আত্ম-জীবন চরিতে বলিয়াছেন যে তিনি প্রথম প্রথম ছাত্রদিগকে শারীরিক শাস্তি দিতেন; কিন্তু ত্বরায় সে পথ পরিত্যাগ করিলেন। দেখিলেন যে শারীরিক শাস্তি অপেক্ষ প্রেমের দ্বারা বালকদিগের হৃদর আকর্ষণ করিলে অধিক কাজ করা যায়। সেইরূপে তিনি তাহাদিগকে আপনার দিকে আকৃষ্ট করিতে সমর্থ হইলেন। ইহার ফল আমরা পরবর্তী সময়ে দেখিয়াছ। অতি অল্প ছাত্রকেই গুরুর প্রতি এরূপ প্রতি ও শ্রদ্ধা স্থাপন করিতে দেখিয়ছি। উত্তর কালে তাহার ছাত্রদিগের অনেকে কৃতী ও যশস্বী হইয়া নানা বিভাগে নানা কাৰ্য্যে গিয়াছেন। প্রায় সকলেই মেদিনীপুরের ও রাজনারায়ণ বাবুর স্মৃতি হৃদয়ে দৃঢ়মুদ্রিত করিয়া লইয়া গিয়াছেন। এই ছাত্রেরাই, উত্তর কালে উদ্যোগী হইরা তাহদের গুরুভক্তির চিহ্নস্বরূপ মেদিনীপুর একটা আবাস বাট নির্মাণ করিয়া রাজনারায়ণ বাবুকে উপহার দিয়াছিলেন।

 র্তাহার দ্বিতীয় - কার্য ব্রাহ্মসমাজের পুনঃ স্থাপন। কোন্‌নগয় নিবাসী সুপ্রসিদ্ধ শিবচন্দ্র দেব মহাশয় যখন মেদিনীপুর ডিপুটী কালেক্টরের কাজ করেন, তখন তাঁহার উদ্যোগে সেখানে ব্রাহ্মসমাজ প্রথম স্থাপিত হয়। কিন্তু শিবচন্দ্র বাবু কৰ্ম্মস্থত্রে সে স্থান পরিতু্যাগ করিলে কিছুদিন পরে সে সমাজ উঠিয়া যায়। রাজনারায়ণ বাবু ১৮৫১ সানে মেদিনীপুরে পদার্পণ করিয়াই ১৮৫২ সালে সমাজের পুনঃ প্রতিষ্ঠা করেন; এবং নিজেই তাহার উপাসনাদি কাৰ্য্য করিতে প্রবৃত্ত হন। বলিতে গেলে এতৎসংক্রান্ত কাৰ্য্যই তাঁহার জীবনের প্রধান কাৰ্য্যরূপে গণ্য হইবার উপযুক্ত; এই সমাজের সংক্সৰে