পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩২৫
প্ৰয়োদশ পরিচ্ছেদ ।

 আনন্দমোহনের পঠদ্দশাতেই প্তাহার পিতৃবিয়োগ হয়। তখন তাহায় বিধবা মাতা উমাকিশোরীর প্রতি তিন পুত্রের রক্ষা ও শিক্ষা প্রভৃতির ভার পড়ে। তিনি সে ভার সমুচিতরূপেই বহন করিয়াছিলেন । । সেই ধৰ্মপরায়ণগ নারীর একদিকে যেমন সন্তানদিগের প্রতি প্রগাঢ় বাংসল্য ছিল, অপর দিকে তেমনি । তাহাদের চরিত্রের প্রতি প্ৰথর দৃষ্টি এবং শাসনশক্তিও প্রচুর ছিল । ফলতঃ এই সময় হইতে তিনি । কি রূপে একদিকে দক্ষতার সহিত আপনার বিষয় সম্পত্তি রক্ষা করিত লাগিলেন, এবং অপর দিকে সন্তানগণের রক্ষা ও শিক্ষাদির ব্যবস্থা করিতে লাগিলেন, তাহা যখন শ্রবণ করা যার তথন বিস্ময়াবিষ্ট হইতে হয়। 'মনে হয় এই সকল রমণী যদি সমুচিত শিক্ষা ও কাৰ্য্য করিবার সুবিধা লাভ করিতেন তাহা হইলে স্বীয় স্বীয় প্রদেশে এক একটী রক্তির উৎস স্বরূপ হইয়া দেশের কি মহোপকারই সাধন করিতে পারিতেন।

 ধৰ্ম্ম-পরায়ণতা আনন্দমোহনের মাতার চরিত্রের প্রধান লক্ষণ ছিল। তাহার দৃষ্টান্তস্বরূপ ছুইটী বিষয়ের উল্লেখ করিলেই যথেষ্ট হইবে। তাহার । পতির মৃত্যুর পর তিনি প্রায় পঞ্চাশ বৎসর জীবিত ছিলেন। এই দীর্ঘকালের মধ্যে তিনি তাহার পতির স্বতিকে হৃদরের অতি উচ্চ স্থানে ধারণ করিয়া ছিলেন। সামা্য কথোপকথনে যদি কেহ তাহার স্বৰ্গীয় পতির নাম উচ্চারণ করিত, উমাকিশোরী তৎক্ষণাং বক্তাকে ক্ষণকাল স্তব্ধ হইতে বলিতেন দুই কর যোড় করিয়া নিজ শিরে যাৱণ করিতেন ; এবং উদ্দেশে স্বর্গীয় কৰ্ত্তাকে প্রণাম করিয়া তৎপরে অবশিষ্ট কথা শুনিতে প্রবৃত্ত হইতেন। এরূপ অসামাষ্ঠ্য পতিভক্তি কয়জন স্ত্রীলোকে দেখিতে পাওয়া যায়! তৎপরে তাহার বংশধরদিগের মুখে শুনিয়াছি, তাঁর সাধুভক্তি এমনি প্রবল ছিল যে তিনি গাড়ি করিয়াপথে যাইবার সমর যদি শুনিতে পাইডেন যে পথপার্ষে একজন মুসলমান পী:রর গোর রহিয়াছে, তাহ৷ হইলে কখনই তাহার সম্মুখ দিয়া গাড়ি হাকাইয়৷ যাইতেন না, গাড়ি হইতে । অবতরণ করিয়া গলবস্ত্ৰে সেই গোর প্রদক্ষিণ পূর্বক অপর দিকে গিয়৷ গাড়িতে । উঠিতেন। সঙ্গের বালক বাণিকার হাসিয়া বলিত “ঠাকুর মা ওকি, ওযে, মুসলমান পীর, তুমি যে হিন্দুর মেয়ে” তখন তিনি । বলিতেন—“সাধুর "আবার হিন্দু মুসলমান কি রে” ? আমরা স্বচক্ষে দেখিয়াছি তাহার তিন পুত্রই এই সাধুভক্তি ও উদারতা প্রচুর পরিমাণে লাভ করিরাছিলেন। আর একটী ঘটনা আমাদের স্মৃতিতে মুদ্রিত রহিয়াছে। একবার ‘সার জন লরেন্স’ নামক এক জাহাজে অনেক