পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪০৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪০
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

বন্ধুদের প্রতি কি প্রেম! মুথে মিষ্ট কথা বলিতে জানিতেন না; কার্য্যে অকৃত্রিম, তাল প্রেম প্রকাশিত হইত। তিনি মুখে সৰ্ব্বধাই বলিতেন “ধৰ্ম্মের উচু উচ্চ কথা অধিক জানি না; ধর্মের গৃঢ় তত্ত্ব অধিক বুঝি না; পার্কার দুই চারিশ কথা শিখাইয় গিয়াছেন, তাহাই ধ্যানে জ্ঞানে রাখিয়াছি,—একটা কথা এই, মনে, বাক্যে, কার্যে গাটি থাকিতে হইবে; দ্বিতীয় কথা এই জীবনের কৰ্ত্তব্য সুচারুরূপে পালন কম্বিয় ঈশ্বরের পূজার উপযুক্ত হইতে হইবে। “এরূপে জীী নের কৰ্ত্তব্য পালন করিতে অল্প লোককেই দেখিয়াছি। ব্রহ্মময়ীকে মুখী করিবার জন্য তাহ’য় সে ব্যগ্র তা দেখিয়াছি তাহা অতীব প্রশংসনীয়; তৎপরে নিজের অবস্থাতে পুত্র কন্যাদিগকে যত উৎকৃষ্ট শিক্ষা দেওয়া সম্ভব তাহা দিতে ক্রটি করেন নাই। তাঁহার দ্বিতীয় কন্যাকে কলিকাতা হইতে প্রবেশিকা পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ করিয়া মান্দাজে মেডিকেল কলেজে পাঠাইয়াছিলেন। ইনিই পরে স্থ প্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানির ডাক্তার জে, সি, বসুর পত্নী হইয়াছেন। বন্ধুবান্ধবের প্রতি কৰ্ত্তব্য স্বদেশের প্রতি কৰ্ত্তব্য এসকল বিষয়ে ও তাহার আচরণ আদর্শ-স্থানীয় ছিল। সংক্ষেপে বলি এরূপ উদারচেতা, স্বজনবৎসল, কর্তব্যনিষ্ঠ ও স্বদেশপ্রেমিক মানুষ অল্পই দেখিয়াছি।

দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

 এইবার আ.ম এক বীরপুরুষের জীবনচরিত বর্ণন করিতে যাইতেছি। বাঙ্গালীর মধ্যে এরূপ সাহসী, দৃঢ়চেতা, অকুতোভয়, বীর প্রকৃতির মানুষ অল্পই দেখিয়াছি। ইহার নাম দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়। কুলীনের দুর্গ বিক্রমপুর হইতে এই মানুষটা আসিমৃছিলেন; এবং কিছুকাল আমাদের সঙ্গে বাস করিয়াছিলেন। সেই কয়েক বৎসরের মধ্যে নিজের ছরি আমাদের হৃদয়পটে অবিনশ্বর অক্ষয়ে মুদ্রিত কারুয়া রাখিয়া গিয়াছেন।

 দ্বারকানাথ বাঙ্গাল ১২৫১ ও ইংরাজী ১৮৪৫ সালে ৯ই বৈশাখ দিবসে পুৰ্ব্ববঙ্গের বিক্রমপুর জেলার অন্তর্গত মাগুরখণ্ড গ্রামে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। ইহাদের বংশ স্ব প্রসিদ্ধ বেঘের 'কুলীন বংশ। এই বেঘের কুলীনগণ কুলমৰ্য্যাদাতে সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ। ইহাদের সহিত বিবুল্লাহ-সম্বন্ধ স্থাপন করিবার জন্য অপরাপর কুলীনের ব্যস্ত। স্বারকানাথের পিল্লা কৃষ্ণপ্রাণ গঙ্গোপাধ্যায় বিষয় ধৰ্ম্ম উপলক্ষে সে