পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৭
প্রথম পরিচ্ছেদ।

হইতে বিনামূল্যে ঔষধ যোগাইতেন। এ সম্বন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। তন্মধ্যে একটী এই,—একবার তাঁহার নিজ ঔষধালয়ে তাঁহার স্বাক্ষরিত একখানি ব্যবস্থা-পত্র আসিল। দেখা গেল ঔষধের ব্যবস্থা লিখিয়া, সৰ্ব্বশেষে লিখিয়াছেন, ‘একগাড়ি খড়’; অর্থাৎ ঔষধের সঙ্গে একগাড়ি খড় পাঠাইতে হইবে। এই ব্যবস্থা লইয়া অনেক হাসাহাসি হইল। কেহই ইহার কারণ নির্ণয় করিতে পারিল না। অবশেষে কালীবাবু ফিরিয়া আসিলে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বলিলেন, “চিকিৎসা করিতে গিয়া দেখিলাম রোগীর ঘরের চালে খড় নাই; এই হিমের দিনে যদি সমস্ত রাত্রি হিম লাগে তবে আর আমার চিকিৎসা করিয়া ও ঔষধ দিয়া ফল কি? তাই ভাবিলাম ঔষধের সঙ্গে একগাড়ি খড় পাঠান যাক্।” যে সহৃদয়তাতে এতদূর করিতে পারে তাহাতে যে কালীবাবুকে সৰ্ব্বজনপ্রিয় করিয়াছিল, তাহাতে আশ্চৰ্য্য কি? তাঁহাকে দেখিলে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই প্রীত হইতেন। তিনি চিকিৎসার্থ আহূত হইয়া কোনও গৃহস্থের গৃহে পদার্পণ করিবামাত্র বালকবালিকাদিগের মধ্যে আনন্দধবনি উত্থিত হইত। ইহারই উল্লেখ করিয়া স্বৰ্গীয় দীনবন্ধু মিত্র মহাশয় তাঁহার প্রণীত “সুরধুনী কাব্যে” বলিয়াছেন;—

“কোমল স্বভাব তাঁর মধুর বচন,
ছেলেরা আনন্দে নাচে পেলে দরশন;
ছেলেদের কালীবাবু, ছেলেরা কালীর,
উভয়েতে মিশে যায় যেন নীরে ক্ষীর।”

 রাধাবিলাসি ও শ্রীপ্রসাদ রামতনু বাবুর ন্যায় মহাত্মা ডেবিড হেয়ারের প্রতিষ্ঠিত স্কুলে শিক্ষালাভ করেন। শ্রীপ্রসাদও বিদ্যাশিক্ষা বিষয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে জ্ঞানালোক লাভ করিয়া পরিতৃপ্ত থাকিতে পারেন নাই। দেশের বালকদিগকে ইংরাজী শিক্ষা দিবার জন্য স্বীয় বাসভবনে একটী ইংরাজী বিদ্যালয় স্থাপন করিয়া স্বয়ং শিক্ষকতা কাৰ্য্যে প্রবৃত্ত হন। এ সম্বন্ধে ক্ষিতীশবংশাবলী-চরিত-লেখক নিম্নলিখিত বিবরণ দিয়াছেন;—“১২৪৩ কি ৪৪ রাঃ অব্দে কৃষ্ণনগর-নিবাসী দেশ-হিতৈষী শ্ৰীযুক্ত শ্ৰীপ্রসাদ লাহিড়ী নিজ নিকেতনে এক অবৈতনিক ইংরাজী বিদ্যালয় স্থাপন করেন! * * * তিনি আন্তরিক যত্ন ও পরিশ্রমপূর্ব্বক অধ্যাপন করিতেন এবং দরিদ্র ছাত্রগণকে পাঠ্যপুস্তক ও কাগজ কলম দিতেন।