পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২৫৩
একাদশ পরিচ্ছেদ।

প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। মনোমোহন উত্তরাধিকারী স্বত্রে পিতার উদার ভাব লাভ করিয়াছিলেন।

 মনোমোহন বাল্যকালে নদীয়া জে লাস্থ কৃষ্ণনগর সহরে স্বীয় পিতার নিকট থাকিয়া কৃষ্ণনগর কলেজে ইংরাজী” শিক্ষা করেন। সেখান হইতে ১৮৫৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হন। তৎপূৰ্ব্বেই ১৮৫৮ সালে টাকী শ্ৰীপুরের বিখ্যাত রায়বংশের অন্ততম বংশধর শুামাচরণ রায়ের কল্লা স্বর্ণলতার সহিত তিনি পরিণয়-পাশে বদ্ধ হন। এই শ্রীপুরের রায়গণ সুপ্রসিদ্ধ বসন্ত রায়ের বংশজাত। কুলমর্যাদাতে ইহারা বঙ্গদেশের কায়স্থ-সমাজে অগ্রগণ্য। রামলোচন নিজে পদ-গৌরবে অগ্রগণ্য হইয়া এই সুপ্রসিদ্ধ কায়স্থ-পরিবারের সহিত বিবাহ সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছিলেন।

 অগ্ৰেই উল্লিখিত হইরাছে যে, সে সময়ে নীলের হাঙ্গামা ও আন্দোলনে সমগ্র বঙ্গদেশ ও বিশেষভাবে নদীয়া জেলা অতিশয় উত্তেজিত হইয়াছিল। নীলকরদিগের অত্যাচার ও প্রজাদের ধৰ্ম্মঘট উভয় চলিতেছিল। ঐ নীলের হাঙ্গামা বালক মনোমোহনের চিত্তকে উত্তেজিত করে। কৃষ্ণনগরে থাকিতে থাকিতে ১৮৬০ সালে, তিনি নীলকরদিগের বিরুদ্ধে লিখিতে আরম্ভ করেন। হিন্দুপেট্রিটের সম্পাদক হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায় বিপজ্জালে खफूिड श्हेब अमृषटब প্রাণত্যাগ করাতে তাহ নাক উক্ত পত্রিকাতে যথাসময়ে প্রকাশিত হইতে পারে নাই; এবং তাহাই' নাকি মনোমোহনকে “ইণ্ডিয়ান মিরার” প্রকাশে উৎসাহিত করিয়াছিল।

 ১৮৬১ সাথে মেমোহন কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে পাঠ করিতে আসিলেন এবং এখানে আসিয়া নবোদীয়মান কেশবচন্দ্র সেন মহাশয়ের সহিত বন্ধুতাস্থত্রে বদ্ধ হইলেন। ইহার দুই বন্ধুতে মিলিত হইয়া “ইণ্ডিয়ান মিরার” নামে পাক্ষিক সংবাদপত্র বাহির করিমে! তাহা এক্ষণে দৈনিক হইয়াছে; এবং কেশববাবুর পিতৃব্যপুত্র শ্ৰীযুক্ত নরেন্দ্রনাথ সেনের দ্বারা সম্পাদিত হইতেছে |

 ১৮৬১ সালে ঘোষজ মহাশয় সিবিল সার্কিস. পরীক্ষা দিবার জন্ত ইংলণ্ডে গমন করেন; এবং সেখানে চায় বৎসর বাস করেন। ইহার মধ্যে তিনি দুইবার সিবিল সাৰ্ব্বিশ পরীক্ষাতে উপস্থিত হন; কিন্তু পরীক্ষার নিয়মাদির পরিবর্তন ঘটাতে श्वश्रे অকৃতকাৰ্য্য হন। তৎপরে বারিষ্টারি পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হইয়। ১৮৬৬ সালের জুন মাসে স্বদেশে প্রতিনিবৃত্ত হন। এই সময়ে