পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৫০
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

পড়েন। তাহার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণ বায়ু তাঁহার দেহকে পরিত্যাগ করিয়া যায়।

 এতদ্ভিন্ন এই কালের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেহ কেহ এখনও জীবিত আছেন; সেজন্য তাঁহাদের জীবন-চরিত ব্যক্ত করা গেল না।

চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ

 কৰ্ম্ম হইতে অবসৃত হইয়া কৃষ্ণনগরে বসবার পর ১৮৬৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাহিড়ী মহাশয়ের জ্যেষ্ঠ কন্যা লীলাবতার বিবাহ হয়। ডাক্তার তারিণীচরণ ভাদুড়ী নামক একজন এসিষ্ট্যাণ্ট সার্জ্জনের সহিত এই বিবাহ হয়। দেশীয় প্রচলিত রীতি-অনুসারে এ বিবাহ হয় নাই। লাহিড়ী মহাশয় নিজে ঈশ্বর সাক্ষী করিয়া কন্যা সম্প্রদান করিয়াছিলেন; এবং লীলাবতী তখন বয়ঃপ্রাপ্ত হইয়াছিলেন।

 এই বিবাহ মহাসমারোহপূর্ব্বক সম্পন্ন হইয়া ছিল। নবদ্বীপাধিপতি মহারাজ সতীশচন্দ্র প্রভৃতি কৃষ্ণনগরের প্রায় সমস্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বিবাহস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তদ্ভিন্ন কালকাতা হইতে কেশবচন্দ্র সেন, প্রতাপচন্দ্র মজুমদার, জ্যোতিরিন্দ্ৰ নাথ ঠাকুর, কালীচরণ ঘোষ প্রভৃতি অনেক ভদ্রলোক নিমন্ত্রিত হইয়া গিয়াছিলেন। কৃষ্ণনগরের লোকে লাহড়ী মহাশয়কে এমনি ভালবাসিত যে কি ইংরাজ কি বাঙ্গালি, এই গার্হস্থ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হইতে সাহায্য করিতে কেহই ক্রটী করেন নাই। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ রায় পরিবারের ভ্রাতৃগণ বিশেষ উল্লেখ-যোগ্য। রায় বাহাদুর ষদুনাথ রায়, কুমারনাথ রায়, কৃষ্ণনাথ য়ায়, ও দেবেন্দ্রনাথ রায় প্রভৃতি ভ্রাতৃগণ সদাশয়তার জন্য কৃষ্ণনগরে প্রসিদ্ধ। ইঁহাদের আতিথ্য ও সৌজন্য যাহারা একবার ভোগ করিয়াছেন, তাহারা কখনই তাহা বিস্তৃত হইবেন না, যেখানেই সাহায্যের প্রয়োজন, সেইখানেই সাহায্য করা যখন এই পরিবারস্থ ব্যক্তিদিগের স্বভাব, তখন লাহিড়ী মহাশরের কন্যার বিবাহে যে ইহার সাহায্য করিত্বে অগ্রসর হইবেন, তাহাতে আর বিচিত্র কি। লাহিড়ী মহাশয়কে ইহারা চিরদিন পরমাত্মীয় ও অভিভাবকস্বরূপ ভাবিয়া আসিয়াছেন। সুতরাং লীলাবতীর বিবাহকে ইহারা আপন