পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৫১
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ।

দের নিজের গৃহের কন্যার বিবাহ জ্ঞান করিয়া কয় ভাই বুক দিয়া পড়িয়াছিলেন। আহারাদির উত্তমরূপ বন্দোবস্ত করা, নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদিগের সমুচিত অভ্যর্থনা করা, প্রভৃতি সকল কার্য্যের ভার ইহারাই গ্রহণ করিয়াছিলেন। কোনও দিকে কিছুরই অপ্রতুল হয় নাই।

 লাহিড়ী মহাশয়ের পারিবারিক অনুষ্ঠানের কথা বলিতে গেলেই দুইটী কথা স্মরণ হয়; এবং প্রকৃত সাধুতার কি অপূৰ্ব্ব আকর্ষণ তাহা মনে হইয়া চক্ষের জল রাখা যায় না। প্রথম, ক্লষ্ণনগরের আপামর সাধারণ সকল শ্রেণীর লোকের তাঁহার প্রতি যে শ্রদ্ধা ভক্তি দেখিয়াছি, তাহা কোনও দিন ভুলিবার নহে। একটি ঘটনা আমি নিজে প্রত্যক্ষ করিয়াছিলাম, তাহা বলিতেছি। আমি একবার কৃষ্ণনগরে গিয়াছিলাম; তখন লাহিড়ী মহাশয় কৃষ্ণনগরে ছিলেন। আমি তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া আমার এক বন্ধুর বাড়িতে যাইতেছি, পথে কতকগুলি নিম্নশ্রেণীর মানুষ দেখিলাম। তখন সায়াহ্নকাল; বোধ হইল তাহারা বাজার করিয়া ঘরে ফিরিয়া যাইতেছে। আমি তাহাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইতেছি। হঠাৎ আমার মনে হইল, রামতনু বাবুর প্রতি ইহাদের কিরূপ ভাব একবার দেখি। এই ভবিয়া পশ্চাৎ হইতে জিজ্ঞাস করলাম “হে বাপু, তোমরা কি কৃষ্ণনগরের লোক?”

 উত্তর। আজ্ঞে, কৃষ্ণনগরেরই বলতে হবে, পাশের গ্রামের।

 প্রশ্ন। তোমরা কি রামতনু লাহিড়ীকে জান?

 উত্তর। কে? আমাদের বুড়ো লাহিড়ী বাবু? তাকে কে না জানে?

 প্রশ্ন। কেমন মানুষ?

 উত্তর। তিনি কি মানুষ? তিনি দেবতা।

 প্রশ্ন। সে কি হে! পৈতে ফেলা লোক, হাঁস মুরগী খান, দেবতা কেমন?

 অমনি মানুষগুলি ফিরিয়া দাঁড়াইল। “কে গা মশাই, আপনি বোধ হয় এদেশের মানুষ নন।”

 “না বাপু, আমি এদেশের মানুষ নই।”

 উত্তর। ও তাইতে, আপনি যে সব বলেন ও সব করা অন্যের পক্ষে দোষ, ওঁর পক্ষে দোষ নয়, উনি যা করেন তাই শোভা পায়।

 আমি একেবারে অবাক হইয়া গেলাম। পরে কতলোকের নিকট এই গল্প করিয়াছি।