পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৫৭
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ।

আত্মীয়তা জন্মে। স্ত্রী-স্বাধীনতাদলের অগ্রণী হইয়া একুবার তিনি স্বীয় ভ্রাতুপুত্ৰাদিগকে লইয়। টাউন হলে কেশববাবুর বক্তৃতা শুনিতে গেলেন ; এবং তাহাদিগকে প্রকাশু স্থানে বসাইলেন । ইহাতে র্তাহার প্রাচীন বন্ধু প্যারীচাঁদ মিত্র তাহাকে তামাসা করিয়া বলিলেন—“কি হে রামতঃ ! বুড়ো বয়সে শিং ভেঙ্গে বাছুরের দলে মিশলে নাকি ?” লাহিড়ী মহাশয় টাউনহল হইতে আসিয়া আমাকে বলিলেন—“প্যারীর বোধ হয় ইচ্ছা ছিল মেয়েদের সঙ্গে পরিচিত হয়, কিন্তু ওরা হালকা লোক, আমি মেয়েদের ত্রিসীমায় আসত্যুে দিলাম ন৷ ” ইহাতেই সকলে বুঝিবেন তিনি অত্যগ্রসর হইয়াও আদব কায়দার প্রতি কিরূপ দৃষ্টি রাখিতেন।

 তৎপরে স্ত্রীস্বাধীনতা পক্ষীরগণ “হিন্দু মহিলা বিদ্যালর” নামে যে বিদ্যালয় স্থাপন করিলেন, তিনি আপনার দ্বিতীয়া কন্যা ইন্দুমতীকে সেই স্কুলে দিলেন। নারী জাতির প্রতি লাহিড়ী মহাশয়ের বিশেষ প্রতি ৪ শ্রদ্ধা ছিল। নারীগণের মধ্যে শিক্ষা-বিস্তারের জন্ত তিনি সৰ্ব্বদ। র্যগ্র ছিলেন । তিনি কলিকাতাতে আসিয়া আমাদের যে পরিবারের অতিথিরূপে বাস করিতেন, সে পরিবারের মহিলাগণের আনন্দের সীমা থাকিত না । কারণ, তাহার এই নিয়ম ছিল যে আহারাস্তে কিছুকাল বিশ্রামের পর, ছপর বেল পরিবারস্থ নারীগণকে এক ঘরে একত্র করিতন ; দানা প্রসঙ্গ উপস্থিত করির মুখে মুখে তাহাদিগকে অনেক ভাল ভাল বিষয় ওনাইতেন । কখনও বা নারীগণের মধ্যে কাহাকেও কোনও একটা বিষয় পড়িয়া শুনাইতে বলতেন। একজন পড়িতেন আর সকলে শুনিতেন ; তিনি মধ্যে মধ্যে পঠিত বিষয় অবলম্বন করিয়া মুখে মুখে আরও অনেক জ্ঞাতব্য বিষয় তাহদের গোচর করিতেন। এইরূপে তিনি দশদিন কোনও গৃহে থাকিলে সেখানকার হাওয়া আর এক প্রকার করিয়া তুলিতেন। কি পুরুষ, কি রমণী, সকলের যন এক উচ্চভূমিতে আরোহণ করিত।

 ১৮৭২ সালে কেশবচন্দ্র সেন মহাশয় যখুন “ভারতাশ্রম” নামে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করিলেন, তখন লাহিড়া মহাশয়ের ভ্রাতুপুত্রীদ্বয় অপরাপর পরিবারগণের সহিত সেখানে গিয়া বাস করিতে লাগিলেন। এই সময়ে লাহিড়ী মগ্নশয় মধ্যে মুধ্যে আশ্রমে আঁসিয়া.বাস করিতেন। কেশবচন্দ্র সেন মহাশয় তাহার বৌবন-মুহৃদ' প্যারীমোহন সেমের পুত্র; সুতরাং তাহার প্রতি লাহিড়ী মহাশয়ের বিশেষ মেহ ছিল। কেবল স্নেহলহে, ঈশ্বর-ভক্ত মানুষ