পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬২
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

মহিলারা ত আর সঙ্গতে ধান না, তারা এ সম্বন্ধে কোনও সংবাদ দিতে পারিলেন না। তখন আমি তাহার ভ্রাতুপুত্ৰীদিগের সহিত এক বাড়ীতে থাকিতাম। যেই আমি বৈকালে বাড়ীতে পা দিয়াছি, অমনি বলিলেন “ডাক ডাক শিবনাথকে ডাক, শুনি এমন কথা কে বললে।” আমার বস্ত্র পরিবর্তনের বিলম্ব সছিল না। আমি গিয়া দাড়াইলে বলিলেন—“মা পড়ে গুনাও ত!” উক্তিগুলি পুনরায় পঠিত হইলে আমি বলিলাম—“ও কথা কেশববাবু বলেছেন।” অমনি আনন্দ আর হৃদয়ে ধরে না,—“দেখেছ আমি বলেছি কেশব না হয়ে যায় না, সে বিন এমন কথা কে বলতে পারে।” সে দিন জরের কথা ভুলিয়া গেলেন; আয় শয়ন করিলেন না; আমাদের সঙ্গে রিপুদমন ও চরিঞ্জের উন্নতি বিষয়ে কথাবার্তা চলিল।

 সে সময়ে যে কেবল লাহিড়ী মহাশয়েরই শরীর অনুস্থ থাকিত তাহা নহে, তাহার দ্বিতীয় পুত্র শরৎকুমার, তাহার চতুর্থ পুত্র বিনয়, তাহার জ্যেষ্ঠ কন্য লীলাবতীর একমাত্র পুত্র চারুচন্দ্র, ইহাদের কাহায়ও না কাহারও অনুস্থতার জন্ত সৰ্ব্বদা ব্যস্ত থাকিতে হইত।

 প্রথমে ভাগলপুরে গিয়া নবকুমারের পীড়ার কিঞ্চিৎ উপশম দেখা গিয়াছিল। এমন কি তিনি অল্পে অল্পে চিকিৎসা ব্যবসাও আরম্ভ করিয়াছিলেন; এবং ১৮৭৫ সালের জুলাই মাসে শরৎকুমারের শীর অসুস্থ হওয়াতে তাহকেও আপনার কাছে লইয়া দুই ভাই বোনে তাহর শুশ্রুষাতে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন। এদিকে পিতা মাতা অবশিষ্ট পরিবার লইয়া কৃষ্ণনগয়ে ছিলেন। দিন এক প্রকার মুখেই চলিতেছিল। এমন সময়ে ঐ সালের নবেম্বর মাসে দেশে এক নিদারুণ সংবাদ আসিল। লাহিড়ী মহাশয় তারে সংবাদ পাইলন যে "প্তাহার জামাত তারিণীচরণ, ভাদুড়ী হঠাৎ আত্মহত্যা করিয়াছেন। তিনি উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে কাশীপুর নামক স্থানে গবর্ণমেণ্ট ডিস্পেন্সেরির ডাক্তার ছিলেন। কেন যে হঠাৎ আত্মহত্যা করিলেন তাহার কারণ জানিতে পার গেল না। এই ঘটনাতে লাহিড়ী মহাশন্থের ছিন্ন ভিন্ন পরিবার যেন আরও ভয় হইয়া গেল। লীলাবতী পুত্রটি লইয়া এখন হইতে সম্পূর্ণরূপে পিতার উপরেই পড়িলেন। সেই শোকার্বী,কন্যার মুখ দর্শন কম্বিয় তাহার কোমল ওপ্রেমিক হৃদয় কিরূপ ব্যথিত হইতে লাগিল, তাহ সহজেই অনুমিত হইতে পারে।

 এদিকে এই দারূণ সংবাদ ভাগলপুরে পৌছিলে, নবকুমার ও ইন্দুমতী