পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬৫
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ।

কি না, যখন যাহা আবগুক তাহা ইতেছে কি না, এই সকল সংবাদ লওয়া, নিরস্তর এই কাজ চলিল। ইদুর রোগের উপশম কিসে হয় সে বিষয়ে অবিশ্ৰান্ত মনোযোগ দিতে লাগিলেন। যেন তাহার শক্তি থাকিলে মৃত্যুর মুখ হইতে ভগিনীকে ছিড়িয়া আনেন। কিন্তু হাঁয় কে কবে মৃত্যুর মুখ হইতে মানুষকে ছিড়িয়া আনিয়াছে! ইন্দুর জীবন নিৰ্ব্বাণোন্মুখ প্রদীপের ন্তায় ত্বরায় ক্ষীণ প্রভা ধারণ করিল ! অবশেষে ১৮৭৭ সালের ৪ঠা ডিসেম্বরের বিষম দিন উপস্থিত হইল। ঐ দিনে মৃত্যুর কিয়ংকাল পূৰ্ব্বে ইন্দুমতী পিতাকে দেখিবার জন্য ব্যগ্রত প্রকাশ করিতে লাগিলেন। ইন্দুমতী ভগিনীকে বলিলেন “দিদি। বাবাuক একবার ডাক ।” তখনি রামতনু বাবুকে ডাকিয় আনা হইল। তিনি আসিয়া দেখিলেন ইন্দু ছট ফট্‌ করিতেছেন ; ক্ষণকালও স্থির থাকিতে পারিতেছেন না। পিতা জিজ্ঞাসা করিলেন—“ইন্দু! কেন আমাকে ডেকেছ ?” ইন্দুমতী চক্ষু খুলিয়া পিতার মুখের দিকে চাহিয়া বলিলেন— “বাবা । আজ আমার কাছে বসে ; আজ আমাকে বড় অস্থির কর্চে।” লাহিড়ী মহাশয় নিকটে বসিয়া কস্তার হাতখানি নিজের হাতে লইরা বুলিলেন, “ইন্দু! আমাদের যা করবার ছিল করেছি, আৰু কিছু করবার নেই, এখন ঈশ্বরের নিকট প্রর্থনা কর যে তিনি তোমাকে ত্বরায় এ যাতনা হতে উদ্ধার করুন। ইন্দু বক্ষঃস্থলে দুইহাত তুলিয়া বণিলেন—“ঈশ্বর আমাকে ত্বরায় উদ্ধার কর।” তৎপরে পিতার মুখের দিকে চাহিয়া অনুমতি চাহিলেন, “বাব আধিবাই” ? লাহিড়ী মহাশয় বললেন “ষাও" ; অমনি ইন্দুমতী বক্ষের উপরে দুই হাত রাধির স্থির ভাব ধরিলেন ; সেই भूइण्डई প্রাণবায়ু ক্ষীণ দেহযষ্টি ছাড়িয়া গেল ।

 এই পারিবারিক বিপদে মানুষ দেখিতে পাইল রামতনু লাহিড়ীর মধ্যে কি জিনিস ছিল । ওরূপ সোণার চাদ মেয়ে চক্ষের সমক্ষে মিলাইয়া গেল, তাহাতে একটা ওঃ আঃ করা, বা শোকাশ বর্ষপ করা কিছুই করিলেন না। প্রত্যুত যখন তাহার গৃহিণী “মারে ইদুরে!” বলিয়। কাদিয়া উঠিলেন, তখন দৌড়িয়া গিয়া তাহার মুখ আবরণ করিলেন, —“কর কি, কর কি, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ কর যে অনেক যন্ত্রণ হইতে তিনি তাকে শান্তিধ্যমে নিয়েছেল । এখন অধীর হও না; আর একটা সন্তান এখনো শ্বসছে; তার প্রতি কৰ্ত্তব্য এখনও বাকি আছে, এখন অধীর হ’লে তার সেবার ব্যাঘাত হবে ; সে যদি আর ছ মাস বঁাচতো আর দশদিন বঁাচবে না ; চল এখন তার সেবায় নিযুক্ত হই।”