পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬৭
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ।

বাবু পল্লীবাসী তাছার আত্মীয় সুপ্রসিদ্ধ কাৰ্ত্তিকেয়চন্দ্র রায়-মহাশয়ের একটা পুত্রকে ধরিয়া বাইরে প্রাঙ্গণস্থিত একটা বেঞ্চের উপরে বসিয়া তাহাকে সাস্থনা করিতেছেন। সে যুবকট নবকুমারকে এতই ভালবাসিত যে সে শোকে অধীর হইয়া উঠিয়াছে; কোনও ক্রমেই শোক সম্বরণ করিতে পারিতেছে না। রামতনু বাবু তাহকে বলিতেছেন “সে কি হে! তুমি শিক্ষিত লোক, সকল বোঝ, কোথায় তোমার জেঠাইমাকে বোঝাবে, শান্ত করবে, না তুমিই অধীর হয়ে গেল?” এমন সময়ে কয়েকজন যুবক আসিয়া উপস্থিত। তৎপূৰ্ব্বে তাঁহারা সপ্তাহে একদিন আসিয়া লাহিড়ী মহাশয়ের সহিত ধৰ্ম্মালাপ করিতেন। ঐজন্ত তাহদের একটী সঙ্গত সভার মত ছিল। সেই দিন উক্ত সভার অধিবেশনের দিন। তদনুসারে তাহারা উপস্থিত। তাঁহারা জনিতেন না, যে কিয়ৎকাল পূৰ্ব্বে নবকুমারের মৃত্যু হইয়াছে। তাহারা না জানিয়া ঘরে প্রবেশ করিতে যাইতেছেন, এমন সময়ে লাহিড়ী মহাশয় দ্রুতপদে গিয়া বলিলেন “দেখ, আজ এ বাড়ীতে সভার অধিবেশন হবে না; আমার ভুল হয়ে গিয়েছে, আগে সংবাদ পাঠান উচিত ছিল।” সকলে কারণ জিজ্ঞাসা করাতে তিনি ধীরভাবে বলিলেন “অল্পক্ষণ পূৰ্ব্বে নবকুমারের মৃত্যু হয়েছে, তার মৃতদেহ ঐ ঘরে পড়ে আছে, তোমরা যেওনা দেখলে কষ্ট হবে।” শুনে ত সকলে অবাক। শোকের চিকুমাত্রও নাই।

 বাস্তবিক, বাস্তবিক, এই সাধুপুরুষ শোকজয় করিয়াছিলেন। ইন্দু মতীর মৃত্যু হইলে আমি শোক প্রকাশ করিরা তাহাকে একখানি পত্র লিথিয়াছিলাম। আমি ইন্দুমতীকে অতিশয় ভালবাসিঙাম। ইন্দু অনেক जर्भब्र কৃষ্ণনগর হইতে আসিয়া আমাদের বাড়ীতে থাকিতেন; এবং আমাকে অতিশয় শ্রদ্ধা ভক্তি করিতেন। আমার স্মরণ আছে লাহিড়ী মহাশয়কে পত্র লিখিন্মর সময়, আমার পত্ৰখানি নেত্রজলে অনেক স্থলে সিক্ত হইয়া, পাঠের অযোগ্য হইয়া গিয়াছিল, আমাকে সেই সেই শব্দ আবার পরিস্কার করিয়া লিথিয় দিতে হইয়াছিল। কিন্তু লাহিড়ী মহাশরের নিকট হইতে যখন উত্তর আসিল, তখন আমি অবাক। দুই ছত্রে পত্র শেষ হইস্বাছে, এবং সে छ्हें इब ७३ মৰ্ম্মে-“প্রিয় শিবনাথ! আমাদের শোকে যে তুমি এতদূর শোকাৰ্ত্ত হইয়াছ, সে জন্ত তোমাকে ধন্যবাদ করি; কিন্তু এস আমরা সকলে ঈশ্বরকে ধন্তবাদ করি যে তিনি আমার কন্যাকে রোগযন্ত্রণ হইতে উদ্ধার করিয়াছেন।”