পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬৯
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ।

 নবকুমার ও ইন্দু চলিয়া গেলে জননীর নিকট কৃষ্ণনগরের বাড়ী শ্মশানসমান হইল। তিনি কৃষ্ণনগরের প্রতি বিমুখ হইলেন। যেন জীবনের সকল স্বাদ আহ্লাদ কে হরণ করিয়া লইল! কোথায় গেলে ইন্দু নুবকুমারের সন্ধান পান, যেন মন সেইজন্য ব্যগ্র হইতে লাগিল। আর তাহাকে কৃষ্ণনগরে রাখা ভার হইল। ওদিকে কৃষ্ণনগরে ম্যালেরিয়া জ্বরের প্রকোপ আবার বৃদ্ধি পাইয়া সকলকে এমনি ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিল, যে লাহিড়ী মহাশয় ১৮৮২ সাল হইতে কৃষ্ণনগরের যুবরাজের যে অভিভাবকতা করিতে ছিলেন, তাহা পরিত্যাগ করিয়া ১৮৮২ সালে সপরিবারে কলিকাতায় চলিয়া আসিলেন।


পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ।


 ১৮৭৯ সালে লাহিড়ী মহাশয় শোকে ভগ্ন ও রোগে জীর্ণ পরিবার পরিজনকে লইয়া যখন কলিকাতাতে উপস্থিত হইলেন তখন তাঁহাদের অবস্থা বর্ণনাতীত। গৃহে অগ্নি লাগিলে মানুষ যেমন সে গৃহ হইতে ছুটিয়া পলায়, কোথায় দাঁড়াইবে তাহা জানে না, তেমনি তাঁহারা যেন কৃষ্ণনগর হইতে ছুটিয়া আসিলেন, কোথায় দাঁড়াইবেন তাহা জানেন না। লাহিড়ী মহাশয়ের পেনশনের সামান্য ৭৫টা টাকা মাত্র তখনকার ভরসা; তাঁহাতে আর কত চলে! তৎপরে এত বৎসর ধরিয়া বিপদের উপরে বিপদ হইতেছে, একটা ধাক্কা সামলাইয়া উঠিতে না উঠিতে আর একটা আসিতেছে, সহজেই অনুমান করা যাইতে পারে তখন তাঁহাদের কি অবস্থা। কিন্তু চরিত্রের সম্পদ যাহার আছে তাহার অন্য সম্পদ আপনি আসে। জননী ক্রোড়স্থিত শিশুকে বরং পরিত্যাগ করিতে পারেন, কিন্তু জগতজননী চরণাশ্ৰিত দীন ভক্তকে কখনও পরিত্যাগ করেন নাই। এই সাধু, পুরুষের জীবনে তাঁহার প্রচুর পরিচয় পাইয়াছি। তিনি শান্ত ক্লান্ত দেহ মন লইয়া সহরে আসিলেন বটে, কিন্তু এখানে তাহাকে অকপট প্রীতি ও শ্রদ্ধা দানে তৃপ্ত করিবার জন্য অনেক হৃদয় প্রস্তুত ছিল। তন্মধ্যে তাঁহার প্রিয় শিষ্য, তাঁহার পুত্ৰাধিক, স্বৰ্গীয় কালীচরণ ঘোষ মহাশয়ের নাম সৰ্ব্বাগ্রে উল্লেখ্য-যোগ্য। বলিতে সুখ হইতেছে, লিখিতে হৃদয় শ্রদ্ধাভরে নত হইতেছে,

 ৪৭