পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৭৪
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

পদে প্রতিষ্ঠিত থাকিয়া তিনি নিজ অবস্থার উন্নতি করিবার জন্য ব্যস্ত হইলেন এবং নিজের শ্রম, মিতব্যয়িতা ও সততার গুণে সবিশেষ উন্নতি করিয়া তুলিলেন, তাহার বিশেষ বিবরণ পরে দেওয়া বাইবে।

 যে সময়ে লাহিড়ী মহাশয় কলিকাতাতে আসিলেন সে সময় গুরুতর আভ্যস্তরীণ বিবাদে ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলিত হইতেছিল। তাহার সামান্য উল্লেখ অগ্ৰেই করিয়াছি। কুচবিহারের নাবালক রাজার সহিত কেশবচন্দ্র সেন মহাশয়ের কন্যার বিবাহ হইলে, অধিকাংশ ব্রাহ্ম তাহার প্রতিবাদ করিয়া উহা হইতে স্বতন্ত্র হন, এবং সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ নামে একটা স্বতন্ত্র সমাজ স্থাপন করেন। ১৮৭৮ সালের মে মাসে ঐ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাজের সভ্যগণ এই সময়ে তাঁহাদের নবপ্রতিষ্ঠিত সমাজের কার্য্যপ্রণালী নিৰ্দ্ধারণ ও নব নব কাৰ্য্যের উদ্ভাবনের জন্য ব্যস্ত ছিলেন। লাহিড়ী মহাশয় কোনও দলের মানুষ ছিলেন না। চিরদিন তিনি দলাদলির বাহিরে থাকিয়া যেখানেই অকৃত্রিম সাধুতা দেখিয়াছেন সেই খানেই প্রীতি ও শ্রদ্ধা দিয়া আসিয়াছেন। কিন্তু তাহা বলিয়া যাহাক অসত্য বা অন্যায় মনে করিতেন তাহার প্রতিবাদ করিতে কুষ্ঠিত হইতেন না। কলিকাতায় আসিয়া তাঁহার প্রকৃতিগত উদারভাবে বাস করিতে লাগিলেন বটে, কিন্তু কুচবিহারের বিবাহ সম্বন্ধে তাঁহার ভাব ব্যক্ত করিতে ক্রটী করিতেন না। তাহার তৎকালীন দৈনিক লিপিতে দেখিতেছি, তিনি লিখিতেছেন, যে একদিন তিনি “ভারতাশ্রমে” বেড়াইতে গিয়া, কেশব বাবুর গৃহিণীর সমক্ষেই উক্ত বিবাহের প্রতিবাদ করিয়া আসিয়া, হয়ত কেশব বাবুর পত্নীকে ক্লেশ দিয়াছেন বলিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করিতেছেন।

 লাহিড়ী মহাশয় কলিকাতাতে আসিয়া যে কেবল ব্রাহ্মসমাজের নব আন্দোলনের মধ্যে পড়িলেন, তাহা নহে। ইহার কয়েক বৎসরের মধ্যেই হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের মহা আন্দোলন উপস্থিত হয়। প্রায় তাঁহার কলিকাতা আসিবার সমকালেই পঞ্জাবে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী কর্তৃক আৰ্য্যসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়; এবং কর্ণেল জালকট ও মাদাম ব্রাভার্টস্কি আসিয়া বোম্বাই সহরে প্রতিষ্ঠিত হইয়া থিওলফিকাল সোসাইটী স্থাপন করেন। প্রাচীন হিন্দুভাবের পুনঃপ্রতিষ্ঠা উক্ত উভয় সভার লক্ষ্য হওয়াতে হিন্দুধর্ম্মের পুনরুখান বিষয়ে দেশের সর্বত্রই আলোচনা উপস্থিত হয়। এই আলোচনার তরঙ্গ ক্রমে আসিয়া বঙ্গদেশকে অধিকার করে। এখানে কোনও কারণে