পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৭৫
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ।

হিন্দুসংবাদপত্র "বঙ্গবাসী" ও ব্রাহ্মসংবাদ-পত্ৰ “সঞ্জীবনী" এই উভয়ের মধ্যে বিবাদ ঘটনা হইয়া বঙ্গবাসীর পরিচালকদিগের প্রষত্বে হিন্দুধর্ম্মের পুনরুখানের আন্দোলন উঠে। প্রধানতঃ তাঁহাদেরই উদ্যোগ ও প্রয়াসে, শশধর তর্কচূড়ামণি প্রভৃতি কয়েকজন সনাতনধৰ্ম্ম-প্রচারক কলিকাতাতে পদার্পণ করেন; এবং নানা স্থানে বক্তৃতা করিতে আরম্ভ করেন। তাঁহাদের উত্তরে ব্রাহ্মসমাজের দিক হইতেও নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি বক্তৃতা দিতে আরম্ভ করেন। ইহাতে মহা বাকৃযুদ্ধ উপস্থিত হয়। সেই যুদ্ধ ক্রমে মফস্বলেরও নানা স্থানে ব্যাপ্ত হইয়া পড়ে। এই হিন্দুধৰ্ম্মের পুনরুত্থানের স্রোত এখনও চলিয়াছে; এবং দেশের লোকের মনে স্বদেশীভাবকে জাগ্ৰত করিয়াছে। ইহার পরে রামকৃষ্ণ পরমহংসের শিষ্যগণ রামকৃষ্ণ সম্প্রদায় নামে এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করিয়া সনাতনধৰ্ম্মের পুনরুত্থানের ভাবকে আরও প্রবল করিয়াছেন।

 এই সকল আন্দোলনের মধ্যে লাহিড়ী মহাশয় স্বীয় বিশ্বাস ও ধৰ্ম্মভাবে ধীর স্থির থাকিয়া কলিকাতাতে বাস করিতে লাগিলেন। তাঁহার একজন অনুগত শিষ্য একদিন বলিলেন—“তাঁহাকে দেখিলে মনে হইত যেন সত্যই তার ঈশ্বর”। ঠিক কথা, সত্যকে তিনি ঈশ্বর জানিয়া সেবা করিতেন। জানিতেন, সত্য-পরায়ণতা মানবের সৰ্ব্বোচ্চ ও সৰ্ব্বপ্রধান কর্তব্য। যেখানে সত্য সেইখানেই ঈশ্বর। তিনি কি ভাবে সত্যের অনুসরণ করিতেন তাহার কয়েকটা দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিতেছি:—

 একদিন গিয়া দেখি লাহিড়ী মহাশয়েয় মন যেন উত্তেজিত। কারণ জিজ্ঞাসা করিতে বলিলেন—“দেখ, আমার বোধ হয় পরোক্ষভাবে পাপী হচ্চি।” প্রশ্ন—"ব্যাপারটা কি"? উত্তর—“আমাদের বাড়ীতে পীড়া আছে, মুরগী টুরগী সৰ্ব্বদা রাখতে হয়, আমি আশ্চৰ্য্য মনে করি আমাদের পাচক ব্রাহ্মণ তা রাঁধতে আপত্তি করে না; কিন্তু সে যে বাহিরে অন্য লোকের কাছে তাহা স্বীকার করে তা বোধ হয় না; হয়ত মিথ্যা কথা বলে। আমরা ঐ গরীব লোককে প্রকারান্তরে মিথ্যা কথা বলাচ্চি, এতে কি আমরা পাপী নই?” উত্তর—“বাহিরের লোকের কার বা মাথা ব্যথা পড়েছে যে আপনার বাড়ীর ভিতরে কি বাঁধে না রাঁধে তার খবর লয়। আপনার যদি মনে এতই বাঁধে তা হলে অন্য জেতের রাঁধুনী রাখতেই পারেন।” “উত্তর—আমিত তা রাখতে চাই, গৃহিণীর জন্য পারি না।"

 উত্তরপাড়া স্কুলে তিনি যখন হেড মাষ্টার তখন তাঁহার চাকরাণী একদিন