পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৭৬
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

শিশু নবকুমারকে ভূগাইবার জন্য বলিল—“থাম, থান, মিঠাই দিব; এই বাক্যে শিও থামিল। কিন্তু বাকাগুলি, লাহিড়ী মহাশয়ের কর্ণগোচর হইয়া ছিল। তিনি গিয়া চাকরাণীর হাতে পত্নসা দিয়া বলিলেন, “তুমি যখন মিঠাই দেব বলেছ তখন মিঠাই এনে দিতেই হধে, তা না হলে ছেলে মিথ্যে বলতে শিখবে।" এই বলিয়া চাকরাণীকে মিঠাই আনিয়া দিতে বাধ্য করিলেন। ভাগলপুর হইতে আর এক জন বন্ধু আর একটী ঘটনার কথা লিখি মাড়ুেন,। ভাগলপুরে অবস্থিতি কালে লাহিড়ী মহাশয় তদনীন্তন প্রসিদ্ধ। উকীল অতুলচন্দ্র মল্লিকের ভবনে সর্বদা যাইতেন। এক দিন তিনি তবনে প্রবেশ করিতেছেন, এমন সময়ে মল্লিক মহাশয়ের ভৃত্য প্রভুর আদেশে তাহার নিজের জ্য গুড় গুড়িতে তামাক সাজিয়া আনিতেছে। লাহিড়ী মহাশঙ্গ প্রবেশ করিতেছেন দেখিয়া মল্লিক মহাশয় ভৃত্যকে গুড়গুড়ী সরাইতে ইঙ্গিত করিলেন। তৎক্ষণা গুড়গুড়ি অস্তহিত হইল। কিন্তু ঘটনাটী লাহিড়ী মহাশয়েঃ নেত্রগোচর হইল i তিনি গৃহে প্রবেশ পূর্বক আসন পরিগ্রহ করিয়া মল্লিক মহাশয়কে বলিলেন—“তুমি তামাক কেন সরাইলে? যদ তামাক খাওয়া নিষিদ্ধ কার্য মনে কর, কাহারও স ষু থাইও না; আর যদি নিষিদ্ধ না মনে করসকলের সমক্ষেই থাইতে পার।” মনের কথাটা এই জগতের সহিত ব্যবহারে খাঁটি থাকিতে হইবে, রাখা ঢাকা আবার কি!

 ইহার অমুরূপ তাহার জীবনের আর একটা ঘটনা আছে, ‘স্বাহাতে যুগপৎ তাহার' ন্যায়পরায়ণতার ও সত্যপ্রিয়তার পরিচয় পাওয়া যায়। কৃষ্ণনগর কলেজে কৰ্ম্ম করিবার সময় একদিন তাহার দেরাজ হইতে একটী জিনিষ চুরি যায়। প্রণমে মধু নামক একজন ভূত্যের প্রতি তাহার সন্দেহ হয়। তিনি মধুকে কিছু বলেন নাই বটে, কিন্তু কালেজের লোকের। নিকট এসে সন্দেহ প্রকাশ করেন, এবং মধুকে সন্দেহের চক্ষে দেখিতে আরম্ভ করেন। ইহার কয়েক দিন পরে, সে দ্রব্যটা আবার পাওয়া যায়। তথন লাহিড়ী মহাশয় মধুকে জাকিয়া সর্বসমক্ষে বলিলেন: —‘মধু, অমুক জিনিষটী তুমি চুরি করিয়াছ মনে করিয়া আমি মনে মনে তোমাকে চোর ভাবিয়াছিলাম এবং অপরের নিকট সে কল বলিয়াছিগাম, তুমি আমার থে 'অপরাধ মার্জনা কর।

 ফলতঃ প্লাহার পরিবার পরিজনের মুখে শুনিয়াছি যে ঙাহার শেষ