পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৫৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
২৭
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।

সামান্য বিষয় সম্পত্তির ম্যানেজারি করিতেন। এই ভ্রাতৃদ্বয়ের সদাশয়তা, সত্যনিষ্ঠা ও সাধুচরিত্রের বিষয়ে অনেক আখ্যায়িকা কৃষ্ণনগরে প্রচলিত আছে। কার্ত্তিকেয় চন্দ্র রায় মহাশয় আত্মজীবনচরিতে এক স্থানে বলিয়াছেন;—“এই ভ্রাতৃদ্বয়ের কোনও দোষ কখনও কেহ দেখেন নাই বা শুনেন নাই; পরন্তু সকলেই তাঁহাদের গুণের কথা কীর্ত্তন করিতেন।”

 রামকৃষ্ণ নিজে যেরপ ধর্ম্মপরায়ণ লোক ছিলেন, সেইরূপ ধর্ম্মপরায়ণ প্রভুও পাইয়াছিলেন। কিন্তু লালা বাবুদের ম্যানেজারির বেতন স্বল্পই ছিল। ধর্ম্মভীরু রামকৃষ্ণ উপরি আয়ের দিকে চাহিতেন না; সুতরাং কেশবচন্দ্র উপার্জ্জনক্ষম না হওয়া পর্য্যন্ত ক্লেশেই তাঁহার সংসার চলিত।

 রামকৃষ্ণ সন্তানদিগকে সর্ব্বদা কুসঙ্গ হইতে দূরে রাখিবার চেষ্টা করিতেন। প্রতিদিন সায়ংকালে বিষয় কর্ম্ম হইতে অবসৃত হইয়া কিয়ৎকাল ধর্ম্মালোচনাতে যাপন করিতেন। সে সময়ে পাড়াতে দেবীপ্রসাদ চৌধুরী নামে একজন ভদ্র গৃহস্থ ছিলেন। ইনি স্থানীয় আদালতে মহাফেজের কাজ করিতেন। দোল দুর্গোৎসব প্রভৃতি বার মাসে তের পার্ব্বণ, ব্রাহ্মণ ভিক্ষুককে দান, স্বীয় ভবনে শাস্ত্রপাঠ, কথকতা প্রভৃতির ব্যবস্থাবিধান প্রভৃতি নিষ্ঠাবান হিন্দু-গৃহস্থোচিত সমুদয় কার্য্যের জন্য তিনি কৃষ্ণনগরে প্রসিদ্ধ হইয়াছিলেন। ধর্ম্মানুরাগী ব্যক্তিগণ সর্ব্বদা তাঁহার নিকটে আসিতেন। তদ্ভিন্ন বিষয়-কর্ম্ম-সূত্রেও বহুসংখ্যক লোক তাঁহার অনুগত ছিল। তাঁহার বাড়ী এখনও কৃষ্ণনগরে চৌধুরীবাড়ী বলিয়া প্রসিদ্ধ। রামকৃষ্ণ প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যাকালে তাঁহার ভবনে গিয়া বসিতেন। সেখানে নসীরাম দত্ত প্রভৃতি আরও কয়েকজন আসিয়া যুটিতেন। সেই সাধুসঙ্গে ও সৎপ্রসঙ্গে রামকৃষ্ণের সায়ংকালটা সুখেই কাটিত। তিনি যাইবার সময়ে কেশবচন্দ্রকে, পরে রামতনুকে, সঙ্গে লইয়া যাইতেন। দেবী চৌধুরী মহাশয়ের ভবনে একব্যক্তি ইংরাজী জানিতেন। শিশুদিগকে তাঁহার নিকটে ইংরাজী শিখিতে প্রবৃত্ত করিয়া দিয়া বৃদ্ধেরা ধর্ম্মলোচনাতে নিমগ্ন থাকিতেন। নসীরাম দত্তের উল্লেখ করিয়া রামতনু বাবু তাঁহার দৈনিক লিপিতে এক স্থানে লিখিয়াছেন,—“হায়! তাঁহাকে আর এ জীবনে দেখিব না।” এই নসীরাম দত্তের বিষয়েই কার্ত্তিকেয় চন্দ্র রায় লিখিয়াছেন;—“কৃষ্ণনগরের মাঝের পাড়াবাসী নসীরাম দত্তের পুত্র যে এক পূজার কোঠা প্রস্তুত করেন, তাঁহার অব্যবহিত সম্মুখের ভূমির অধিকারী অন্য একজন ছিলেন। সেই ভূমিখণ্ড