পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৭৮

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৫০
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

কাহার আশ্রয়ে থাকিয়া পাঠ করেন, সেই এক মহাচিন্তা। প্রথমে কেশবচন্দ্রের অনুরোধে গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার তাঁহাকে আপনার বাসায় রাখিতে সম্মত হইলেন। রামতনু সেখানে থাকিয়া স্কুলে পড়িতে লাগিলেন। সে কালে কর্ম্মস্থানে পরিবার সঙ্গে বইয়া যাইবার রীতি ছিল না। কলিকাতাতে যাঁহারা বিষয় কর্ম্ম করিতেন, তাঁহারা সচরাচর হয় কোনও পদস্থ আত্মীয়ের আশ্রয়ে, না হয় দুই দশজনে একত্র হইয়া বাসা করিয়া থাকিতেন। গ্রামের মধ্যে এক ব্যক্তি কৃতী ও উপার্জ্জনশীল হইলে তাঁহার জ্ঞাতি কুটুম্বদিগের মধ্যে অনেকে একে একে আসিয়া তাঁহার কলিকাতাস্থ বাসাতে আশ্রয় লইতেন। কেহ বা কর্ম্মের আশায় নিষ্কর্ম্মা বসিয়া খাইতেন; কেহ বা কর্ম্ম কাজ করিয়া সামান্য উপার্জ্জন করিতেন। এরূপ ব্যক্তিদিগকে অন্নদান করা ভদ্র-গৃহস্থ মাত্রেরই একটা কর্ত্তব্যের মধ্যে পরিগণিত ছিল। অধিকাংশস্থলেই পাকাদি কার্য্যের জন্য স্বতন্ত্র পাচক রাখা হইত না। এই অন্নাশ্রিত বা নিষ্কর্ম্মা ব্যক্তিগণই পালা করিয়া রন্ধনাদি করিতেন। তাহা লইয়া সময়ে সময়ে ঘোর বিবাদ উপস্থিত হইত। একজনের কার্য্য অপরে করিতে চাহিত না। আপনাদের মধ্যে কোনও অল্পবয়স্ক বালক থাকিলে অধিকাংশ স্থলেই বাসার নিষ্কর্ম্মা ব্যক্তিগণ তিরস্কার ও তাড়নাদির প্রভাবে তাহাদিগকে বশবর্ত্তী করিয়া তাহাদিগের দ্বারা অধিকাংশ কাজ করাইয়া লইবার চেষ্টা করিত। এই সকল কলিকাতা-প্রবাসী নিষ্কর্ম্মা লোকের স্বভাব চরিত্র কিরূপ হইত তাহার বর্ণনার প্রয়োজন নাই। এইমাত্র বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে সে সময়ে উপার্জ্জক কলিকাতা প্রবাসীদিগের মধ্যে এরূপ লোক অনেক দেখা যাইত যাঁহারা জীবনে অন্ততঃ একবার চরিত্র-স্খলন জনিত কুৎসিত ব্যাধিতে আক্রান্ত হইতেন। তখন সুরাপানটা প্রবল হয় নাই; কিন্তু কলিকাতা প্রবাসীদিগের অনেকে গাঁজা ও চরস প্রভৃতিতে পরিপক্ক হইতেন।

 অল্পবয়স্ক বালকগণ স্থানাভাবে এইরূপ বাসাতে এইরূপ সঙ্গে আসিয়াই বাস করিত। তাহার ফল কিরূপ হইত। তাহ৷ সহজেই অনুমেয়। বালকদিগের রুচি, আলাপ, আামোদ, প্রমোদ সমুদয় কলুম্বিত হইয়া যাইত। বয়ঃপ্রাপ্ত পুরষদিগের অসঙ্কুচিত আলাপ ও ইয়ারকীর মধ্যে বাস করিয়া তাহার অকালপক্ক হইয়া উঠিত। তাহাদের বয়সে যাহা জানা উচিত নয় তাহা জানিত ও তদনুরূপ আচরণ করিত। অনেকে ফিনফিনে কালাপেড়ে ধুতি পরিয়া, বুট পায়ে দিয়া, দাঁতে মিশি লাগাইয়া ও বাঁকা শিঁতে কাটিয়া