পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৯৭

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৬৫
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

 এস্থলে উল্লেখ করা কর্ত্তব্য যে সহমরণ নিবারণের চেষ্টা এই প্রথম নহে। ইহার কিঞ্চিৎ ইতিবৃত্ত আছে।

 এদেশে ইংরাজ রাজ্যের প্রতিষ্ঠার সময় হইতেই ইংরাজ রাজপুরুষগণের দৃষ্টি এই নৃশংস প্রথার উপরে পতিত হইয়াছিল। কিন্তু প্রথম প্রথম এদেশের প্রজাগণের মনোরঞ্জন করা তাঁহাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল; পাছে এদেশের লোকের ধর্ম্ম বা সামাজিক বিষয়ে হস্তার্পণ করিলে বিদ্রোহাগ্নি প্রজ্বলিত হর এই ভয়ে তাঁহারা সর্ব্বদা সংকুচিত থাকিতেন; সুতরাং তাঁহাদের চক্ষের সমক্ষে শত শত বিধবাকে মৃতপতির চিতানলে দগ্ধ করা হইত, তাহা তাঁহারা দেখিয়াও দেখিতেন না। এমন কি ১৭৪৩ খ্রীষ্টাব্দে ইংরাজদিগের কাশীমবাজারস্থ কুঠির সমক্ষেই রামচাদ পণ্ডিত নামক একজন মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণের অষ্টাদশ বর্ষীয়া বিধবা পত্নী সহমৃতা হন। তখন সার ফ্রান্সিস রসেল কুঠীর অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি, তাহার পত্নী, ও পরবর্তীকাল-প্রসিদ্ধ মিষ্টর হলওয়েল সেই স্থানে উপস্থিত ছিলেন। হলওয়েল (Holwell) স্বচক্ষে যাহা দেখিয়াছিলেন, তাহা লিখিয়া রাখিয়া গিয়াছেন। শুনিতে পাওয়া যায় লেডী রসেল (Lady Russel) নাকি ঐ রমণীকে বাঁচাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়াছিলেন; কিন্তু তাঁহার সকল প্রয়াস ব্যর্থ হয়। ইংরেজকর্ম্মচারিগণ দাড়াইয়া দেখিলেন, কিন্তু কিছু বলিতে সাহসী হইলেন না।

 এই ভাবে বহুদিন গেল। অবশেষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তিভূমি একটু দৃঢ়তর রূপে স্থাপিত হইলেই এই প্রথা নিবারণের জন্য কিছু করা উচিত বলিয়া তাঁহারা অনুভব করিতে লাগিলেন। ১৮০৫ খ্রীষ্টাব্দের ৫ই জুলাই গবর্ণর জেনারেলের প্রাইভেট সেক্রেটারি বিধবাদিগকে যাহাতে বলপূর্ব্বক দাহ করা না হয় তাহার উপায় বিধান করিবার জন্য তৎকালীন নিজামত আদালতকে এক পত্র লিখিলেন। এথানে বলা আবশ্যক যে তৎকালে গবর্ণর জেনেরাল ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ছিলেন, তাঁহার আইনাদি প্রণয়ন করিবার অধিকার ছিল না। দেওয়ানী আইনাদি প্রণয়ন করিতে হইলে তাঁহাকে সদর দেওয়ানী আদালতের সম্মতি ও ফৌজদারী কিছু করিতে হইলে নিজামত আদালতের অনুমতি লইতে হইত। কারণ উক্ত উভয় আদালত ইংলণ্ডাধিপতির অধীন ছিল এবং তাঁহাদের অনুমতি ইংলণ্ডাধিপতির অনুমতি বলিয়া পরিগণিত হইত। তদনুসারে তদানীন্তন গবর্ণর জেনেরাল ঐ প্রশ্ন নিজামত আদালতের নিকট প্রেরণ করিয়া-