প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রূপান্তর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/২১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্র স্থ পরি চ য়ু বাংলা সাহিত্যের অন্যান্ত বিভাগের স্তায় অনুবাদ বিভাগও যে রবীন্দ্রনাথের লেখনীম্পর্শে সমৃদ্ধিলাভ করিয়াছে এ কথা সাধারণ পাঠকের নিকট সুবিদিত নহে তাহার অন্যতম কারণ এই যে, ইহার অনেকগুলিই এযাবৎ রবীন্দ্রনাথের কোনো গ্রন্থে সন্নিবদ্ধ হয় নাই। বাল্যকালেই তিনি কুমারসম্ভবের এক অংশ অনুবাদ করিয়াছিলেন। কয়েক বৎসর পরে তুকারামের কতকগুলি অভঙ্গেরও অনুবাদ করেন, দীর্ঘকাল সেগুলি স্বাক্ষরহীনতার অন্তরালে প্রচ্ছন্ন হইয়া ছিল । সম্ভবতঃ উনবিংশ শতকের শেষভাগে বিদ্যাপতির পদাবলীর কতকগুলি পদের এবং ১৩১২ সালেই ধৰ্ম্মপদের কতক অংশের তিনি অনুবাদ করেন ; উভয়ই প্রকাশিত বা আবিষ্কৃত হয় তাহার পরলোকগমনের পরে । গীতাঞ্জলি রচনার সমকালে তিনি কতকগুলি বেদমন্ত্রের অনুবাদ করেন— ইহার পূর্বেও করিয়াছিলেন, তাহার একটিমাত্র পাওয়া গিয়াছে ; পরেও করিয়াছিলেন বলিয়া ক্ষিতিমোহন সেন মহাশয় উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু এপর্যন্ত তাহা আবিষ্কৃত হয় নাই। এই বেদমন্ত্র-অনুবাদেরও অধিকাংশ তাহার পরলোকগমনের পরে সর্বজনগোচর হইয়াছে । এই-সকল অনুবাদ ব্যতীত, বিভিন্ন সময়ে নানা প্রসঙ্গে তিনি সংস্কৃত শ্লোককবিতার বহু অনুবাদ করিয়াছেন– কালিদাসের কাব্যালোচনাপ্রসঙ্গে ; নাটকীয় চরিত্রের উপযোগী উক্তিরূপে ; ছন্দতত্ত্বের আলোচনায় দৃষ্টান্তস্বরূপে। কোনো কোনো প্রাচীন নীতিবাক্য র্তাহার জীবনে মন্ত্রের মতো কাজ করিয়াছে বলিয়া বোধ হয়, রবীন্দ্রনাথ বারংবার সেগুলির অনুবাদ করিয়াছেন। বেদ ; সংহিতা ও উপনিষৎ ॥ বর্তমান বিভাগে মুদ্রিত প্রথম একাদশটি অনুবাদ ক্ষিতিমোহন সেন মহাশয় বিশ্বভারতী পত্রিকার ১৩৫০ শ্রাবণ-আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশ করেন। ঐ সংখ্যাতেই এই অনুবাদকর্মের ইতিহাসও একটি প্রবন্ধে বিবৃত করেন ; অতঃপর সেটি সংকলিত হইল । )○○