প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রূপান্তর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/২২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় প্রথম কিস্তি বলা চলে। ইহার একটি মন্ত্রের অনুবাদে “আত্মদা বলদা যিনি” কবিতাটি ১৮৯৪ সালের ফাঙ্কনে তত্ত্ববোধিনীতে বাহির হইয়াছিল । রবীন্দ্রনাথের এই যুগের বৈদিক অনুবাদ বিষয়ে আজ আর বেশি কিছু বলা সম্ভব নহে। তাহার পরে ১৯০৯ সালে অগ্রহায়ণ মাসের শেষার্ধে কোনো একটি বিশেষ দাবির জোরে তাহার কাছে কিছু বেদবাণীর অনুবাদ প্রার্থনা করা হয় এবং তিনি সে প্রার্থনা পূর্ণ করেন। - ৭ই পৌষের পূর্বে যাহাতে অনুবাদগুলি পাওয়া যায় এই জন্য বিশেষ ভাবে তাহাকে অনুরোধ করা হইল। ২২শে অগ্রহায়ণ হইতে এক সপ্তাহ ধরিয়া তাহার প্রিয় কয়েকটি বেদমন্ত্রের অনুবাদ তিনি করিলেন । সেগুলির দুই-একটি স্বর দিয়া গান রূপে তিনি পরে প্রকাশিত করেন । ২ বাকি কয়েকটি অনুবাদ সুরের অপেক্ষায় তিনি আমার কাছে রাখিয়া দেন। মাঝে মাঝে আমি তাহাকে এই বিষয়ে সচেতন করিয়াছি কিন্তু তাহার মনের মত সরল অথচ গভীর বেদোচিত সুর দিতে না পারায় তিনি সেগুলি তাহার জীবিতকালে বাহির করিতে পারেন নাই। --- এই অনুবাদগুলিকে দ্বিতীয় কিস্তি ধরিয়া লইতে পারি। এগুলির আবির্ভাব গীতাঞ্জলির সময়ে । বেদোচিত সুরপ্রাপ্তির এই বিপদ দেখিয়া ১৯১০ সালের পরে তাহাকে আর কতকগুলি বেদমন্ত্রের অনুবাদের জন্য ধরি। সেগুলি হইবে কবিতা, গান নয়। তাহার মধ্যে ঋগ্বেদের উষা পর্জন্ত প্রভৃতির স্তুতি ও বসিষ্ঠের মন্ত্র আছে । অথর্ব বেদের কতকগুলি মন্ত্র দেখিয়া তিনি অতিশয় মুগ্ধ হন। অথর্বের নৃস্থত্ত, সুক্তস্কম্ভ, মহীসুক্ত, ব্রাত্যস্বত্ত, বিরাটন্তুতি, উচ্ছিষ্টস্তুতি, শাস্তিমন্ত্র প্রভৃতি কতকগুলি মন্ত্র তাহার চিত্তকে এমন নাড়া দিয়াছিল যে তিনি সেগুলির অনুবাদ না করিয়া থাকিতে পারিলেন না । সেগুলি তিনি একটি স্বতন্ত্র খাতায় লেখেন । এইগুলি তিনি দেখিবার জন্য কাহাকে দেন । কিন্তু পরে আর তাহা ফেরত পান নাই। এইগুলি হইল তাহার তৃতীয় কিস্তি । প্রথম ও তৃতীয় কিস্তির অনুবাদ আমার হাতে না থাকায়, আমি এখন তাহার দ্বিতীয় কিস্তির অনুবাদ কয়টিই সকলের সম্মুখে উপস্থিত করিতেছি। ১৩১৬ সালের ২০ অগ্রহায়ণ র্তাহার রচিত গান— “আলোয় আলোকময় ক’রে হে এলে আলোর অালো” । তাহার পর কয়দিন ধরিয়া ক্রমাগত বেদ ૨ ૭ 8