প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রূপান্তর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/২২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রূপান্তর মন্ত্রেরই অনুবাদ চলিল । গীতাঞ্জলির গানগুলি তিনি যে খাতায় লেখেন তাহারই সাতাশ পৃষ্ঠায় তিনি বেদ-অনুবাদের প্রথম গানটি লেখেন । তাহা লেখা ১৯০৯ সালের ২২শে অগ্রহায়ণ তারিখে। সেই গানটি “পিতা নোহসি” মন্ত্রের অনুবাদ– “তুমি আমাদের পিতা”। ইহার প্রথম অংশের মূল বাণী শুক্ল যজুৰ্বেদ বাজসনেস্কি সংহিতার ৩৭শ অধ্যায়ের ২০শ মন্ত্র : e পিতা নোহসি পিতা নো বোধি নমস্তেহস্তু মা মা হিংসীঃ । এই মন্ত্রের পরেই দ্বিতীয় অংশ বাজসনেয়ির সংহিতায় ৩০শ অধ্যায়ের : বিশ্বানি দেব সবিতরছুরিতানি পরাস্তব যন্তৰ্দ্ৰং তন্ন আস্থব ॥ তার পরের অংশটুকু বাজসনেয়ির ১৬শ অধ্যায়ের ৪১শ মন্ত্র : নমঃ শম্ভবায় চ ময়োভবায়ু চ নমঃ শংকরায় চ ময়স্করায় চ নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ | এই অংশ কয়টি বাজসনেয়ি সংহিতার বিভিন্ন স্থান হইতে চয়ন করিয়} মহর্ষি ব্রাহ্মধর্মের উপাসনামন্ত্ররূপে ব্যবহার করেন। একবার কে একজন আমাকে বলিয়াছিলেন, “মহর্ষি যে এইরূপ বেদের নানা অংশের নানা মন্ত্র জোড়াতাড়া দিয়া ব্যবহার করিয়াছেন তাহা কি আমাদের দেশীয় প্রথার অনুগত হইয়াছে ?” তখন র্তাহার কথাতে বিস্মিত হইয়া আমি বলিলাম, “যাগযজ্ঞের ক্রিয়াকাণ্ডের সব মন্ত্রই নানা স্থান হইতে গৃহীত হইয়া একত্রিত ভাবে ব্যবহৃত হইয়াছে। এমন-কি গায়ত্রী এবং সন্ধ্যার মন্ত্রেরও নানা অংশ বেদের নানা ভাগ হইতে গৃহীত। গায়ত্রীর ব্যাহতি ভূত্বভুবঃ স্বঃ’ এক স্থানের এবং তৎসবিতুত্ববরেণ্যম্’ ইত্যাদি মন্ত্র অন্ত স্থানের। এইভাবে চয়ন করিয়া ব্যবহার করাই ভারতের সনাতন প্রথা । ব্রাহ্মণ এবং সাধক মহর্ষির সেই অধিকার ছিল ।”••• খাতার আটাশ পৃষ্ঠায় তিনটি অনুবাদ, তাহার প্রথমটি— “যিনি অগ্নিতে” । এই মন্ত্রটির মূল হইল : যো দেবোহয়ে যোহপস্থ যে বিশ্বং ভূবনমাবিবেশ । [ ইত্যাদি } २ ० २