প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রূপান্তর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/২৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রূপান্তর দেবদত্তের উক্তি । যত চিন্তা কর শাস্ত্র, চিন্তা আরো বাড়ে ॥ পৃ ৯১ ৷ ইহাও রাজা ও রানী নাটকে দেবদত্তের উক্তি । যে পদ্মে লক্ষ্মীর বাস, দিন-অবসানে ॥ শৃঙ্খল বাধিয়া রাখে এই জানি সবে ॥ পৃ ৯১ ॥ ফাল্গুনী নাট্যকাব্যের বৈরাগ্যসাধন মুখবন্ধে শ্রুতিভূষণের উক্তি । এই নাটকে শ্রুতিভূষণ এবং দাদার বহু ছন্দোবদ্ধ “স্বভাষিত রবীন্দ্রনাথের স্বতন্ত্র স্বষ্টি হইয়া থাকিলেও, তাহাতে সংস্কৃত উদ্ভট শ্লোকাদির অনেকটা ভাবভঙ্গী গ্রহণ করা হইয়াছে। প্রথম কবিতাটি যে ফাঙ্কনী নাটকে চঞ্চলা 'লক্ষ্মীর স্বভাব সম্বন্ধে’ উক্ত হইয়াছে আর আদর্শ শ্লোকটি স্বভাষিতরত্নভাণ্ডাগার গ্রন্থে 'লক্ষ্মীস্বভাব: অধ্যায়ের প্রথমেই সন্নিবিষ্ট ইহাও উল্লেখযোগ্য। এই দুটি কবিতা তুল্যার্থ সংস্কৃত শ্লোক -সহ শ্ৰীকানাই সামন্ত -কর্তৃক সংকলিত । অম্বর অম্বুদে স্নিগ্ধ। মেঘলা গগন, তমাল-কানন ॥ পৃ ৯৩ ৷ অনুবাদ দুইটি শ্ৰীনরেন্দ্র দেবকে লিখিত ২৯ আশ্বিন ১৩৩৬ তারিখের এক পত্রের অন্তর্গত— হাল আমলে সংস্কৃত ভাষায় যখন কাব্যরচনা চলেছিল তখন সে ভাষা চলতি ছিল না। ময়ূরের পুচ্ছে ময়ূরের পালথ হল এক জিনিস আর রাজার বীজনীতে ময়ূরের পালথ হল আরেক জিনিস। সংস্কৃত ভাষার ধ্বনিগাম্ভীৰ্যই সংস্কৃত সাহিত্যের প্রসাধনকলার প্রধান অঙ্গ, সেটাকে যদি বাদ দাও তবে ইন্দ্ৰধনু থেকে রঙের ছটাকেই বাদ দেওয়া হয় । চলতি বাংলার ছাদে যদি কাদম্বরীকে তর্জমা করো তা হলে সে কাদম্বরীই থাকে না । জয়দেবের ‘মেঘৈর্মেক্কুর’ শ্লোকটিতে তিনি সংস্কৃতশবপুঞ্জে ধ্বনির মৃদঙ্গ বাজিয়ে মেঘলা রাত্রির সংগীতটিকে ঘনিয়ে তুলেছেন, সেই সংগীত বাদ দিয়ে কেবল অর্থটুকু রাখা চলে কিন্তু তা হলে ধ্রুপদের সঙ্গতে পাখোয়াজটাকে সরিয়ে রেখে বায়ায় ঠেক দেওয়ার মতো হয়— অভাবপক্ষে কাজ চলে কিন্তু মন প্রফুল্ল হয় না। জয়দেবের ঐ শ্লোকের প্রথম দুটি লাইন সাদা বাংলায় লিখলুম— মেঘলা গগন, তমাল-কানন সবুজ ছায়া মেলে, অঁাধার রাতে লও গো সাথে তরাস-পাওয়া ছেলে । একটা কিছু হল বটে, কিন্তু জয়দেবের স্বরই যদি না রইল তবে গীতগোবিন্দের নাম রক্ষা হবে কী করে। সে স্বরটা সংস্কৃত ভাষারই স্বর। ఇ )\9