পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


টাকাও যা, ধূলাও তা' । సె নৌকায় স্বারোহণ করিয়া অবধি বসুজের চিন্তার অবধি নাই । তিনি একবার ভাবিতেছেন,—“আমি কি করিলাম ! ঘরের টাকাগুলি অদিনে অক্ষণে এমন করিয়া পরকে দিতে চলিলাম! এক একটি টাকা—আমার শরীরের এক এক ছটকে রক্ত । শরীরের এই রক্ত বহির হইয়া গেলে, আমি আর কতক্ষণ বঁচিব !” একবার ভাবিলেন,—“রাজার টাকা । আমি রক্ষক-মাত্র ছিলাম। সে টাক। তাহাকে ফিরাইয়া দিতে আমার কেন কষ্ট হয় ?" পরক্ষণে আপনা-আপনিই উত্তর দিলেন,— '“পরের টাকাই বা কিসে? আমি আদায়-তহশীল ন৷ করাইলে, এ টাকা কোথা হইতে সংগ্ৰহ হইত ? এ রকম পরের টাকা ভাবিতে গেলে, এই দেহটাকেও তো পরের দেহ ভাবিতে হয়। তাহা হইলে ইহ-সংসারে জীবিত থাকাই চলে না । তাহ হইলে বলিতে হয়,—যে স্থষ্টি করিয়াছে, তাহারই দেহ । আমার এই হাত, পা, মুখ, চোথ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—ৰে স্বষ্টি করিয়াছে, সকলই তাহার। তাহার সামগ্ৰী তাহাকেই যদি দিতে হয়, তাহা হইলে আমাকে এখনই আমার হাত, পা, মুখ, চোখ কাটিয়া দিতে হয়। তা দিলে আমি থাকি কোথায় ? শাস্ত্ৰ ব'লেছেন,-“আগে আত্মরক্ষ। " আত্মরক্ষা করিতে হইলে, ও-সকল কোনও কথা শুনিলে চলে না। আমি এ টাক কেন রাজ-সংসারে জমা দিতে যাবে ?” পরক্ষণেই মনে হইল,—“না দিয়াই বা উপায় কি ? রাজার আদেশে প্রাণদণ্ড পর্য্যন্ত হ’তে পারে । রাজা আমায় সৰ্ব্বস্বাস্তু ব’ল্পতে পারেন ! ন-না, অন্য চিন্তায় প্রয়োজন , নাই।