পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/১৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>© 2 লক্ষণ-সেন । দুষ্কর হইত। আপনার ন্যায় স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠ ব্যক্তির প্রতিজ্ঞ ভগবান অপূর্ণ রাখেন না। বোধ হয়, তজ্জন্তই আমাদের এইরূপ মিত্রভাবে সাক্ষাৎকার সংঘটিত হইল।” ইহার পর রাজা জয়সিংহকে নবদ্বীপাধিপতির হস্তে সমর্পণসংক্রান্ত প্রসঙ্গ উত্থাপিত হইল। রাজা জয়সিংহকে নবদ্বীপাধিপতির হস্তে সমর্পণের পূৰ্ব্বে কাশীনরেশ একটা প্রার্থন জানাইলেন । সে প্রার্থনা,-জয়সিংহের প্রাণভিক্ষা-সংক্রান্ত । কাশীনরেশ কহিলেন,—“রাজা জয়সিংহকে আমি আশ্রয় দিয়াছিলাম। আমি আশ্রয়-দানে অক্ষম হওয়ায় আপনার হস্তে সেই ভার অর্পণ করিতেছি । আমার প্রতিজ্ঞা-রক্ষার জন্য, শত ক্রটি উপেক্ষা করিয়াও, আপনি জয়সিংহকে রক্ষা করিবেন। জয়সিংহের প্রাণ-ভিক্ষাই—আপনার নিকট আমার একমাত্র প্রার্থন। আমি কাশীধামের আধিপত্য চাহি না ; যদি আবগুক বোধ করেন, বিনিময়ে আমার প্রাণ পৰ্য্যন্ত গ্রহণ করিতে পারেন ; কিন্তু জয়সিংহকে প্রাণে মারিবেন না । আপনার বিশাল রাজ্যের কত স্থানে কত দলু্য-তস্কর হিংস্ৰজন্তু আশ্রয় পাইয়া আছে। মনে করিবেন,—রাজা জয়সিংহ তাহাদেরই একজন। আমি আপনার সহিত যুদ্ধ করিয়া জয়সিংহকে রক্ষা করিতে পারিলাম না ; তাই আপনার নিকট জয়সিংহের প্রাণ-ভিক্ষা করিতেছি। আপনার নিকট আমার এখন একমাত্র প্রার্থনা,--জয়সিংহকে প্রাণে না মারিয়া আমারও প্রতিজ্ঞা-রক্ষায় সহায়তা করুন ; সঙ্গে সঙ্গে আপনারও প্রতিজ্ঞ বুঙ্কিত হউক ৷” রাজা লক্ষ্মণ-সেন মনে মনে কহিলেন,-“এইরূপ সহৃদয়তা