পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/১৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহ-প্রত্যাগমনে । ১৭৭ করিয়। দিতেন । রাজসরকার হইতে তাহার পাথেয়াদি প্রদানের বন্দোবস্ত ছিল। কিন্তু ত্রিলোচন বসু মুক্তি পাইয়। সেই রাজকৰ্ম্মচারীর সহিত আর সাক্ষাৎ করিলেন না । মুক্তিলাভের পর নবদ্বীপে কাহারও সহিত সাক্ষাৎ করিতে ত্ৰিলোচনের সঙ্কোচ বোধ হইল। মুক্তি পাইয়া, কাহাকেও কিছু না বলিয়া, তিনি আপনার বাসস্থান নূতনগ্রাম অভিমুখে যাত্র। করিলেন। অপমানের কথা মনে করিয়া কাহাকেও মুখ দেখাইতে র্তাহার প্রবৃত্তি হইল না । গৃহ-প্রত্যাগমনকালে কত কথাই তাহার মনোমধ্যে উদয় হইতে লাগিল ; কত দুর্ভাবনা-কত দুশ্চিন্তা আসিয় তাহার হৃদয়-মন অধিকার করিল ! কিন্তু সকল চিন্তার উপর অর্থের চিন্তাই প্রবল হইয়া উঠিল। প্রথমে ভাবিলেন-বাড়ীর-ঘরের সে শ্ৰীছ"দ আর আছে কি ? তার পর মনে হইল,—তাহার সহধৰ্ম্মিণী কি ভাবে দিন কাটাইতেছেন । পরিশেষে মনে হইল,—বিষয়-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়! শুনিয়াছিলেন, তাহার অর্থসম্পং রাজসরকারে বাজেয়াপ্ত হইয়া গিয়ছে ; তাহ। যদি হইয় থাকে, তবে আর তাহার দাড়াইবার স্থান কোথায় আছে ? অন্তরে দারুণ অনুশোচনা উপস্থিত হইল। দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া কছিলেন,--“আমি বিপুল ধনের অধীশ্বর ছিলাম। কেন আমি সৰ্ব্বস্বস্তু হুইলাম।” যিনি যানবাহন ভিন্ন একপদ অগ্রসর হইতেন না ; আজি পদব্রজেই তিনি নবদ্বীপ হইতে নূতনগ্রামে যাত্রা করিলেন নদীর ধারে ধারে পথ চলিয়া, লোকালয় হইতে মুখ লুকাইয় তিনি ধীরে ধীরে অগ্রসর হইতে লাগিলেন । কতদিন পরে