পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/১৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>br8 লক্ষণ-সেন । সঙ্গে লইতে চায় কেন,—এ সকল প্রশ্ন মনে উদয় হইলেও, তখন আর জিজ্ঞাসা করিবার অবসর হইল না। তিনি নিরাশ্রয় ; আশ্রয়-প্রাপ্ত হইতেছেন—এই মনে করিয়াই তিনি আগন্তুকের পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন করিয়া বজরায় আরোহণ করিলেন। তাঁরদেশ হইতে বজরা ভাল করিম দেখিতে পান নাই। এখন বজরার নিকটে গিয়া, বজরার উপর আরোহণ করিয়া, দেখিলেন,—বজরা-খানি সুন্দর—অতি সুন্দর ! বজরার মধ্যে তিনট প্রকোষ্ঠ। প্রকোষ্ঠগুলি নানারূপ কারুকার্য্যে সুসজ্জিত। বজরায় উঠিয়া প্রথমেই যে প্রকোষ্ঠে উপনীত হইলেন, সে প্রকোষ্ঠে সুদৃশ্য বহুমূল্য একখানি গালিচ পাতা ছিল। তাহার উপরে, কতকগুলি কাষ্ঠাসন – সারি সারি সজ্জিত। সে কাষ্ঠাসনগুলি বহুমূল্য রেশমী বস্ত্রে আচ্ছাদিত। সেই সকল বস্ত্রে নানারূপ জড়ির কাজ । মধ্যস্থলের একখানি আসন রাজ-সিংহাসনের ন্যায় শোভাসম্পন্ন। সে আসনে মণিমুক্তাবিখচিত ঝালর দোদুল্যমান। কক্ষে একটী বেলোয়ারী ঝাড় ঝুলিতেছিল । তাহারই আলোকে কক্ষটকে উদ্ভাসিত করিয়া রাখিয়াছিল। কক্ষের ছাদ ও প্রাচীর রং-বেঙ্গের চিত্রাবলীতে বিভূষিত ছিল। কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিয়া, ত্রিলোচনকে একখানি আসনে বসিতে বলিয়া, ভদ্রলোকটী একবার পাশ্বস্থ প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করিলেন ; এবং মুহূৰ্ত্ত পরেই ফিরিয়া আসিয়া ভূত্যকে আহ্বান পুৰ্ব্বক কহিলেন,—“রামদাস ! আহারের ব্যবস্থা কর।” রামদাস কহিল,-“সকলই প্রস্তুত আছে। আপনার হাতমুখ ধুইয়া আসুন। আমি ঠাকুর মহাশয়কে বলিতেছি।”